September 23, 2021
6 beautiful birds

বিশ্বের ৬ টি সৌন্দর্যময় পাখির বাসা।-Home of 6 beautiful birds of the world.

বিশ্বের ৬ টি সৌন্দর্যময় পাখির বাসা।-Home of 6 beautiful birds of the world.

হ্যালো বন্ধুরা,আজ আমি আপনাদের সাথে যে বিষয়টি শেয়ার করতে যাচ্ছি সেটা হল,বিশ্বের ৫ টি সৌন্দর্যময় পাখির বাসা।-Home of 6 beautiful birds of the world.হয়তো বলতে পারেন সারা বিশ্বে নজর কাড়ার মতো ৫ টি পাখি। সব প্রাণীই নিজ বাসাতেই সবথেকে নিজেকে সুরক্ষিত মনে করে। আমাদের পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি প্রজাতির প্রাণীই নিজের জন্য কোন না কোন ভাবে বাসা তৈরি করে। আর সবচাইতে creative বাসা তৈরি করে থাকে পাখি। আর এই বাসা তৈরি করার জন্য পাখি হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে। প্রতিটি প্রজাতির পাখিই তাদের সুনিপুণ কারিগরি দক্ষতা প্রদর্শন করে থাকে।

পাখির বাসা দেখতে অনেকটা সহজ মনে হলেও এগুলো এতটাই কঠিন যে কোনো কোনো পাখিকে একটি বাসা বানানোর জন্য হাজারেরও বেশিবার উড়াল দিতে হয়। আজকে আমরা আলোচনা করবো এমন কিছু পাখির বাসা বানানোর পদ্ধতি যা শুনলে আপনারা পাখি গুলোকে ইঞ্জিনিয়ার বলতে বাধ্য হবেন। তো বন্ধুরা চলুন জেনে আসি,বিশ্বের ৫ টি সৌন্দর্যময় পাখির বাসা।-Home of 5 beautiful birds of the world.

উইভার বার্ড (Weaver Bird)

উইভার বার্ড এর বাসা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বাসা। উঁচু উঁচু গাঁছে এই প্রজাতির পাখির বাসা দেখতে পাওয়া যায়। আপনারা জানলে অবাক হবেন এই প্রজাতির পাখির বাসা মেয়ে পাখি না বানিয়ে পুরুষ পাখি বানিয়ে থাকে। পুরুষ উইভার বার্ড এ বাসা বানানোর জন্য লম্বা লুম্বা পাতা সংগ্রহ করে থাকে। প্রথমে পুরুষ উইভার বার্ড বাসার প্রায় অর্ধেকের বেশি কাজ শেষ করে ফেলে।

পরবর্তীতে মেয়ে পাখি এসে বাসটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে যদি তার ভালোলাগে তাহলে বাসার বাকি অংশ পুরুষ পাখি ও স্ত্রী পাখি মিলে সম্পূর্ণ বাসা তৈরি করে ফেলে। এই প্রজাতির পাখিরা আগস্ট মাসে তাদের বাসা বানানোর কাজ শুরু করে থাকে। আর ফেব্রয়ারিতে শেষ হয়। এই প্রজাতির পাখি এতটাই নিখুঁত ভাবে বাসা বানিয়ে থাকে,যে এগুলো ওয়াটার প্রুফ ও হয়। সেই সাথে এসব বাসা ঝড় বৃষ্টিতে কিছুই হয়না।

Beautiful birds

পেন্টাগনিয়ান সি বার্ড (Patagonian Sea Bird)

এটা এমন এক প্রজাতির পাখি যা কেবল ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু আইলেন্ড এ দেখতে পাওয়া যায়। এই পাখি গুলোকে সি বার্ড বলা হয়ে থাকে। কারণ তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময়ই সমুদ্র এবং সমুদ্রের আসে পাশে কাটিয়ে থাকে। তবে মাঝেমধ্যে মেস্কিকোর জঙ্গলেও এসব পাখি দেখা যায়। তবে যখন প্রজন্মের মৌসুম আসে তখন সকল পাখি একত্রিত হয়ে কোলনি গঠন করে লক্ষ লক্ষ পাখি একত্রিত হয়। তাদের কলনির কারণ শিকারী পাখি তাদেরকে আক্রমন করতে না পারে।

এ সময় তারা একত্রে শিকারি পাখির হামলা মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত থাকে। আর তারা তাদের এই কলোনি সুমুদ্রের আসে পাশে ঠান্ডা জায়গায় গঠন করে। যতদিন পর্যন্তনা প্রজম্ন মৌসম শেষ হয়ে যায় ততদিন পর্যন্ত এই পাখি গুলো এভাবেই কলোনি গঠন করে জীবনযাপন করতে থাকে। আর তাদের এভাবে কলোনি গঠন করে ৩ মাস পর্যন্ত থাকতে হয়। প্রজনন শেষে যে যার মতো উড়ে যায় আর এমন দৃশ্য কেবল মাত্র এই প্রজাতির পাখির ক্ষেত্রেই দেখা যায়।

Beautiful birds

এলফ আউল (Elf owl Bird)

পেঁচা সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই জানি। আর এই প্রজাতির পাখি গুলো সবচাইতে বেশি সমালোচিত হয়ে থাকে। শুধুমাত্র রাতে আত্মপ্রকাশ করার জন্য।তবে এটার একটি কারণও রয়েছে, তারা তাদের খাবার রাতে খোঁজ করে আর দিনে বাসায় ঘুমিয়ে থাকে। এলফ আউল অন্য প্রজাতির আউল অর্থাৎ অন্য পেঁচা গুলোর চাইতে অনেক ছোট হয়ে থাকে। অন্যান্য প্রজাতির পেঁচা অনেক উঁচু জায়গায় বাসা নির্মাণ করে কিন্তু এই প্রজাতির পেঁচা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

আপনারা জানলে অবাক হবেন এরা কেকটাচ গাছের মধ্যে নিজেদের বাসা তৈরী করে। তবে এটা তাদের জন্য বেশ protective হয়ে থাকে। তারা কেকটাচ এর মধ্যে এমন ভাবে বাসা তৈরী করে যেন সে গর্তে ঢুকার পরে অন্য কোনো শিকারি পাঁখি গর্তে ঢুকে আক্রমণ করতে না পারে। এরকম ধরণের আরও এক প্রজাতির পাখির নাম হলো গ্রেট হর্নেড আউল। এরাও তাদের বাসা কয়েকটি কেকটাচ গাছের উপরে বানিয়ে থাকে।

Beautiful birds

বাল্ড ঈগল (Bald Eagle Bird)

বাল্ড ঈগল আমাদের পৃথিবীর মধ্যে শিকারি পাখি গুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়ংকর একটি পাখি। এই পাখি দেখতে যতোটা বড় এর বাসাটাও ঠিক ততোটাই বড়। ঈগলের বাসার প্রস্থ প্রায় ৯ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে আর এই বাসার গভীরতা সর্বোচ্চ ২০ফিট পর্যন্ত হয়ে থাকে। ঈগল ছোটো ছোটো ডাল এবং শুকনো ঘাঁস লতা,পাতা দিয়ে বাসা বানিয়ে থাকে।

ঈগলের ডিম্ ফুটে বচ্চা হওয়ার পরে মা ঈগল যখন বুজতে পারে তার বচ্চা এখন সুরক্ষিত তখন মা ঈগল তার বাসর পরিধি আরো বাড়াতে থাকে আর দীর্ঘ সময় বাসার পরিধি এভাবে বাড়ানোর জন্য ঈগলের বাসা অনেক বোরো হয়ে থাকে। ফ্লোরিডা সেন্ডস পিটার্সবার্গে ঈগলের একটি বাসা পাওয়া গিয়েছিলো আপনারা জানলে অবাক হবেন যে এই বাসার ওজন ছিল প্রায় ২ টন অর্থাৎ ২ হাজার কেজি।

Beautiful birds

হর্ন্ড কুট (Horn Coot)

হর্ন্ড কুট, এই প্রজাতির পাখি প্রায় সবসময় পানির মধ্যে থাকে। আর সেই কারণেই তাদের বাসা পানির মধ্যে বানিয়ে থাকে। আর এগুলো দেখতে অনেকটা ক্ষুদ্র দীপের মতো মনে হয়। এমনকি এ বাসাগুলোকে ফ্লোটিং নেস্টও বলা হয়ে থাকে। গাছের ছোট ছোট ডালপালা এবং শুকনো লতাপাতা, ঘাস দিয়ে তাদের বাসা বানিয়ে থাকে।

ডাঙ্গা থেকে প্রায় ৪০থেকে ৫০ ফিট দূরত্ব স্থানে পানির মধ্যে তাদের বাসা বানিয়ে থাকে। আর এই বাসগুলো পানির মধ্যে ভারসমান অবস্থায় থাকে। এই প্রজাতির পাখিগুলো তাদের খাদ্য চাহিত নদীতে থাকা ছোট ছোট মাছ খেয়ে পূরণ করে ফ্যালে। তাই তারা পানির মধ্যে তাদের বাসা বানিয়ে থাকে। এমনকি এই বাসায় তাদের বাচ্চাও জন্ম দেয়। তবে মাঝেমধ্যে ঝড় বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ঢেউয়ে এই প্রজাতির পাখির বাসা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

Beautiful birds

আরও পড়ুনঃ বিশ্বের সবচেয়ে আয়তনে বড় ১০টি দেশ -The 10 largest countries in the world

সোশিয়েবল উইভার বার্ড (Sociable weaver Bird)

সোশিয়েবল উইভার বার্ড এই পাখি গুলোর নামের প্রথমে সোশিয়েবল লাগানোর কারণ হলো এই পাখিগুলো সামাজিক ভাবে বসবাস করে। এই পাখি গুলোর ৫ থেকে ১০০ টিরো বেশি গর্ত হয়ে থাকে যেখানে কিনা ১০ থেকে ৪০০ টিরো বেশি পাখি একসঙ্গে বসবাস করে। এই পাখি গুলো ছোট ছোট ডাল-পালা এবং শুকনো খড়কুটো ঘাঁস দিয়ে তাদের এই বিশাল আকারের বাসা বানিয়ে থাকে। কোনো কোনো সময় এই বিশাল বাসা একই গাছে ৫-৬ টা দেখা যায়।

গাছ যত বড়ো হয় বাসার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। বছরের পর বছর ধরে এই পাখিগুলো একই বাসা ব্যবহার করে বলে তাদের বাসা বিশাল আকারের হয়ে থাকে। কোনো কোনো সময় অন্যান্য প্রজাতির পাখি ও এই প্রজাতির পাখির বাসায় আশ্রয় নেয়। এই প্রজাতির পাখির বাসা অনেকটা মৌমাছির বিশাল আকারের চাকের মতো দেখায়।এমনকি এই প্রজাতির পাখির বাসা ইলেকট্রিক পুলের উপরেও বানিয়ে থাকে।

beautiful birds

বিস্তারিত জানতেঃ পদ্মার চরে পাখির বাসা

তো বন্ধুরা এই ছিল আজকের আয়োজন। আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে। আর ভালো লেগেই থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের এই পোস্টে লাইক,কমেন্ট এবং শেয়ার করবেন। তো বন্ধুরা এতক্ষন পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ
Writing By
Abdullah Ahmed

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.