September 23, 2021
স্মার্টফোনে শিশুদের আসক্তি

স্মার্টফোনে শিশুদের আসক্তি দূর করতে যা করবেন

স্মার্টফোনে শিশুদের আসক্তি দূর করতে যা করবেন

স্মার্টফোনে শিশুদের আসক্তি

আসসালামু আলাইকুম,আশা করি সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি। তো বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের সাথে এমন একটা বিষয় শেয়ার করতে যাচ্ছি, সেটা আমাদের সমাজে প্রায়ই দেখা যায়। সেটা হল স্মার্টফোনে শিশুদের আসক্তি দূর করতে যা করবেন। পৃথিবীর সৃষ্টির পর থেকে মানুষ তার প্রয়োজনে কত কিছু তৈরী করেছেন।

মানুষ তার প্রয়োজনে ক্রমে ক্রমে তৈরী করেছে নানা যন্ত্রপাতি। এগুলা করতে পেরেছে মানুষের ভিতরে লুকিয়ে থাকা ইচ্ছা শক্তি দ্বারা। মানুষের সেই অদম্য শক্তি দ্বারা আজ পৃথিবীতে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। আর সেই অদম্য শক্তি সহায়তায় আজ মানুষ আধুনিক বিশ্বে পা দিতে সক্ষমও হয়েছে। আর সেটি সম্ভব হয়েছে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারে।

প্রাচীন কালে মানুষ একত্রিত হয়ে কাজ করলেও এখন মানুষ একক ভাবেও বিশ্বের বুকে নাম লেখাতে সম্ভব করে তুলছে। একেক জনের তৈরী যন্ত্র একেক ভাবে মানুষের কাছে সমাদৃত হচ্ছে। আর সেই সকল প্রযুক্তির মধ্যে অন্যতম প্রযুক্তির নাম হল স্মার্টফোন। এটা পূর্বে মানুষ যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করে থাকলেও এখন এটা মানুষের নিত্য দিনের সংঙ্গী হয়ে গিয়েছে। এখন এটা ছাড়া মানুষ একটা মিনিটও চলতে চায় না। ফলেস্মার্টফোন হয়ে উঠেছে মানুষের বন্ধু।বর্তমান এর জনপ্রিয়তা সারাবিশ্বে আকাশচুম্বি।

তবে এটার ব্যবহার এতটাই বেড়ে গেছে যে, এখন ছোট-বড় উভয়ের হাতে এখন এই স্মার্টফোন দেখা যায়। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে না ভাবে এটা ব্যবহার করছে। তবে বর্তমান স্মার্টফোনে যতটা প্রয়োজন মেটাচ্ছে ঠিক ততটাই ক্ষতিও করছে। তবে এই স্মার্টফোন গুলো প্রাপ্ত বয়স্কদের হাতে থাকলে তেমন ক্ষতি না দেখলেও এটা শিশুদের হাতে দেখতে পেয়ে সমাজ বিশ্লেষকরা স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারছে না। কারণ কোথায় আছে না, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত।

আর সেই শিশু যখন এই স্মার্টফোনের উপর এতটা আসক্তি তখন সেই শিশুর ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে হয়ত সেটা আপনার আমার কারোই অজানা নয়। তবে বিশেষ করে এই করোনা কালে লকডাউনে এর ব্যবহার বেড়েছে দ্বিগুন। কারণ এই মহামারী চলাকালীন মানুষ যখন গৃহবন্দী ছিল তখন এই স্মার্টফোনই ছিল তাদের একমাত্র সঙ্গী।

তাছাড়া শিশুরা যেন ঘরের বাহিরে যেতে না পারে তার জন্য তাদের হাতে এই স্মার্টফোন তুলে দিতে বাধ্য হয় তাদের পিতা-মাতা। এর ফলে শিশুর এই স্মার্টফোনের উপর এক ধরনের আসক্ত জমে গিয়েছে। তো আসুন আজ জেনে নেই আপনার আমার শিশুরা দিনের পর দিন কিভাবে এই স্মার্টফোনের উপর আসক্তি হয়ে পড়ছে।

স্মার্টফোনে শিশুদের আসক্তি যেভাবে হচ্ছে

স্মার্টফোনে শিশুদের আসক্তি

আমরা অভিভাবকরা প্রায়ই বাচ্চাকে শান্ত রাখার জন্য তার হাতে স্মার্টফোন বা ট্যাব দেই এবং গান, কার্টুন বা মজার ভিডিও চালিয়ে দিয়ে তাদের শান্ত করে রাখি। আবার স্কুল-কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের কারণে বাধ্য হয়েই শিশুর হাতে তুলে দিতে হচ্ছে স্মার্টফোন।

দিনের প্রায় সময় শিশুদের হাতে স্মার্টফোন থাকায় তাদের ভিতরে এক ধরনের আসক্তিতে পড়েছে। বর্তমানে অনলাইন ক্লাস, বিনোদন ও কার্টুন- এগুলোর কারণে শিশুদের একাংশ সময় কাটে স্মার্টফোনে। এখন শিশুরা মোবাইল, টেলিভিশন, স্মার্টফোন ও ইউটিউবে সময় কাটায়।
যা অনেকেই স্বাভাবিক ভাবে নিলেও এগুলা মূলত ক্ষতির কারণ। কারণ তারা অল্প দিনের মধ্যে যৌন সাইট গুলাতে ঢুকে পড়ছে এমনকি এরকম আরও অশ্রীল আপস গুলোর সাথে পরিচিত হচ্ছে। এবং অনেক সময় বিপদজনক সাইট গুলোতে ঢুকে পড়ছে।

আসলে আপনি যদি খবর নিয়ে দেখেন তাহলে দেখবেন যে এই ঘটনা গুলা সেই পরিবারের সন্তানদের সাথে ঘটছে যে পরিবারে স্বামী-স্ত্রী উভয়ই কর্মজীবী। আর এটা মূলত শহরে বেশি দেখা যায়। কারণ কাজের কারনে তারা তাদের সন্তানদের সময় দিতে পারে না। ফলে শিশুরা মা-বাবার আদর-যত্ন থেকে বঞ্চিত হয়। আর সেকারণেই বাচ্চাদের সময় কাটানোর জন্য ফোন, ট্যাব কিংবা ল্যাপটপ ব্যবহার করছে। তবে এর আরেক টি প্রধান কারণ হচ্ছে খেলার মাঠ না থাকায়। ফলে শিশুরা সহজেই আসক্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ বিশ্বের সবচেয়ে আয়তনে বড় ১০টি দেশ -The 10 largest countries in the world

স্মার্টফোনে শিশুদের আসক্তি যে ভাবে আসক্তি কমবে

১. শিশুদের স্মার্টফোন থেকে স্মার্ট ডিভাইসের দিকে বেশি নজর দেওয়াতে হবে। যাতে স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকে এবং স্মার্টফোনে কি করছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

২. শিশুরা অনলাইনে ক্লাস করার সময় ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে কি করছে সেদিকে খেয়াল রাখা। এছাড়াও স্মার্টফোন থেকে অশ্রীল সাইট গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রয়োজনে ইন্টারনেট প্রোভাইডারদের সাথে কথা বলতে হবে।

৩. তাছাড়া প্রয়োজনে শিশুদের সাথে বসে একসঙ্গে খেলুন বা ভিডিও দেখুন। শিক্ষণীয় ভিডিও দেখতে পারেন যাতে বড় হয়ে এই সকল ভিডিও দেখতে আগ্রহ হয়।

৪. আপনি যদি প্রযুক্তির উপর আসক্তি হয়ে থাকেন তাহলে আপনার সন্তানও প্রযুক্তির উপর আসক্তি হবে। তাই আপনাকে আসক্তি দূর করতে হবে তাইলে আপনার সন্তানও কম আসক্ত হবে।

৫. প্রযুক্তির সুবিধা-অসুবিধা,ভালো-মন্দ উভয় দিক বুঝিয়ে বলুন। এবং অতিরিক্ত ব্যবহারে কি ক্ষতি হতে পারে সেটি তাদের সামনে তুলে ধরুন। তাহলেই আপনার সন্তান নিরাপদ।

আপনার সন্তান কি করলে ভালো হবে আর কি করলে খারাপ হবে সেটা নিতান্তই আপনার ব্যাপার। তবে অভিভাবক হিসেবে আপনি আপনার সন্তানকে অবশ্যই এই আসক্তি থেকে দূরে রাখবেন।কারন আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তির সাথে সবাই কম বেশি পরিচিত। তবে এখানে ভালো-মন্দ দুটো দিকই আছে। তো আপনার কাজ হবে ভালো কাজের সাথে পরিচিত করে দেয়া আর সেই সাথে মন্দ কাজ গুলোকে বর্জন করানো।

আর একটা শিশু তখনই একটা কাজে পারদর্শী হবে যখন সে সেই কাজ সম্পর্কে জানবে। তো আজ শিশু স্মার্টফোন চালিয়ে যা শিখবে পরবর্তীতে শিশু সেই কাজ গুলাই করবে। তাই আমাদের উচিত শিশু স্মার্টফোন ব্যবহার করে আসক্ত যেন না হয়। আর এভাবেই করতে থাকলে একটা সময় আসবে যখন এই শিশুরা স্মার্টফোনের উপর আর আসক্ত হবে না।

তো এই ছিল আজকের পোস্ট যেখানে আমি আলোচনা করেছি স্মার্টফোনে শিশুদের আসক্তি দূর করতে যা করবেন? নিয়ে আশা করি আপনাদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছি । আশা করি পোস্টটি ভালো লেগেছে কেমন লেগেছে তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানতে ভুলবেন না। এই রকম আরও পোস্ট পেতে চাইলে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের পোস্ট গুলো যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে, অনুগ্রহ করে আমাদের পোস্ট গুলি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করবেন।

আরও পড়ুনঃ শিশুদের স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখুন

>>> ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন আমাদের সাথে। যুক্ত হতে – এখানে ক্লিক করুন

যদি কোনো ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ক্ষমা সন্দুর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ আপনাকে আর্টিকেলটি পরার জন্য ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন বিদায় নিচ্ছি আজকের মত আল্লাহ্‌ হাফেজ।

Writing By
Shapon Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published.