September 23, 2021
কালজয়ী চিত্র শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

কালজয়ী চিত্র শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির জীবনী

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আপনারদের দোয়ায় আর আল্লাহর অসীম রহমতে ভালো আছি। তো বন্ধুরা আজকে আমরা আলোচনা করবো লিওনার্দো দা ভিঞ্চির জীবনী সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি লিওনার্দো দা ভিঞ্চিকে চিনি তো চলুন কথা না বাড়িয়ে জেনে আসি।

আমাদের আজকের আয়োজন রয়েছে জগৎ বিখ্যাত ইতালির রেনেসাঁসের কালজয়ী চিত্র শিল্পী, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এর সংক্ষিপ্ত বাংলা জীবনী। লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এর পূর্ণ নাম হচ্ছে লিওনার্দো দি সার্পিওর দা ভিঞ্চি। ইতালিও রেনেসাঁসের কালজয়ী এই চিত্র শিল্পীর অবশ্য ওহুমখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। লিওনার্দো দা ভিঞ্চির অন্যান্য পরিচয় এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে হাস্কর ইস্থ্যদি সংগীদজ্ঞ সময় যন্ত্র শিল্পী এবং বেঞ্চ শতাব্দীর বহু বিজ্ঞানিক আবিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছেন তিনি। তার বিখ্যাত শিল্পগুলোর মধ্যে Mona Lisa The Last Supper অন্যতম। তার সৈল্পিক মেধার বিকাশ ঘটে খুব অল্প বয়সেই। আনুমানিক ১৪৬৯ সালে রেনেসাঁসের ওপর বিশিষ্ট শিল্পী ও ভাস্কর আন্দ্রেয়া ভেরুচ্চিওর কাছে ছবি আঁকায় ভিঞ্চির শিক্ষানবিশ জীবনের সূচনা। এই শিক্ষাগুরুর অধীনেই তিনি ১৪৭৬ সালে রেনেসাঁসের অপর বিশিষ্ট চিত্রাস্কনে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। ১৪৭২ সালে তিনি চিত্রশিল্পীদের গিল্ডে ভর্তি হয় এবং এই সময় থেকেই তারা চিত্রকর জীবনের সূচনা হয়। ১৪৭৮ সাল থেকে ১৫১৬-১৭ ও ১৫১৯ সাল অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রসারিত এবং বিভিন্ন পর্বে বিভক্ত, এক দীর্ঘ ও অক্লান্ত কর্ম সাধনার জীবন তার। গির্জা ও রাজপ্রাসাদের দেয়ালে চিত্রাস্কন এবং রাজকীয় ব্যাক্তিবর্গের ভাস্কর্য নির্মাণের পাশাপাশি বেসামরিক এবং সামরিক প্রকৌশলী হিসাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান জ্ঞানের প্রয়োগ, অঙ্গব্যাবচ্ছেদবিদ্যা, জীববিদ্যা, গণিত ও পদার্থবিদ্যার মত বিচিত্র সব বিষয়ের ক্ষেত্রে তিনি গভীর অনুসন্ধিৎসা প্রদর্শন করেন এবং মৌলিক উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় দেন। আনুমানিক ১৪৮২ সালে তিনি মিলান গমন করেন এবং সেখানে অবস্থান কালে তার বিখ্যাত দেয়াল চিত্র দা লাস্ট সাপার অঙ্কন করেন। আনুমানিক ১৫০০ তিনি ফ্লোরেন্স ফায়ার আসেন এবং সামরিক বিভাগে প্রকৌশলী পদে নিয়োগ লাভ করেন। এই সময়েই তিনি তার বিশ্বখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসা অঙ্কন।করেন। জীবনের শেষকাল তিনি ফ্রান্সে কাটান।

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির জীবনী

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির কৈশোর (১৪৫২ থেকে ১৪৬৬)

লিওনার্দোর জন্ম হয়েছিল ১৪৫২ সালের ১৫ এপ্রিল রাত্রি ত্রিপ্রহরে। তুস্কান এর পাহাড়ি এলাকা ভিঞ্চি তে, আরনো নদীর ভাটি অঞ্চলে। তিনি ছিলেন ফ্লোরেন্সের এক নোটারী পিয়েরে দা ভিঞ্চির এবং এক গ্রাম্য মহিলা ক্যাটরিনার অবৈধ সন্তান। তার মা সম্ভবত মধ্যেপ্রাচ্য থেকে আগত দাসী ছিলেন। আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে লিওনার্দোর নামে কোন বংশ পদবি ছিলোনা। দা ভিঞ্চি” দিয়ে বোঝায় তিনি এসেছেন গইঞ্চি নগরী থেকে। তার পুরো নাম লিওনার্দো দি সের পিয়েরো দা ভিঞ্চি” এর অর্থ হল পিয়েরোর পুত্র লিওনার্দো এবং সে জন্মেছে ভিঞ্চিতে।
লিওনার্দোর জীবনের প্রথম অংশ বিষয়ে খুবই অল্প জানা গিয়েছে। তার জীবনের প্রথম ৫ বছর কেটেছে এনসিয়ানোর একটি ছোট্ট গ্রামে। তারপর তিনি চলে যান ফ্রন্সিসকো তে তার পিতা,দাদা,দাদি ও চাচার সাথে থাকতে। তার পিতা আলভিরা নামে এক ষোড়শী তরুণীকে বিয়ে করেছিল। সে লিওনার্দো কে অনেক স্নেহ করতো। কিন্তু অল্প বয়সেই সে মৃত্যুবরণ করে। এর কৈশোর জীবন বিষয়ে লিওনার্দো দুইটি ঘটনার কথা লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন। প্রথম টি হল একবার একটি ঘুড়ি হঠাৎ করে আকাশ থেকে নেমে তার দোলনার উপর দিয়ে যাবার সময় তার মুখে এর লেজের পালক বুলিয়ে যায়। লোকজন এই ঘটনাকে তার ভবিষ্যত জীবনের সফলতার লক্ষণ হিসেবে ধরে নিয়েছিল। দ্বিতীয় ঘটনা হল তিনি ছোটবেলায় একবার এক পাহাড়ে ঘুরতে গিয়েছিলো। সেখানে তিনি একটা গুহা আবিষ্কার করেছিল। গুহাটা ছিল আর তার মনে হচ্ছিলো এর ভিতরে নিশ্চয় কোন অতিকায় দৈত্য লুকিয়ে আছে। কিন্তু তার অদম্য কৌতূহলের কারণে তিনি এই গুহায় কি আছে, তা খুঁজেও দেখেছিলো।

ষোড়শ শতাব্দীর জীবনী লেখক ভাসারি রেনেসাঁর চিত্রশিল্পীদের জীবনী লিখেছিলেন। লিওনার্দো কে তিনি তার বর্ণনায় বলেছেন লিওনার্দোর বাবা কে স্থানীয় একজন লোক বলেছিল তিনি যেন তার ছেলেকে একটি ছবি আঁকতে বলেন। লিওনার্দো এই অনুরোধের প্রক্ষিতে একটি ছবি আঁকেন। এতে ছিল একটি সাপের মুখ থেকে আগুন নির্গত হচ্ছে। ছবিটি এতো সুন্দর হয়েছিল পিয়েরো তা স্থানীয় চিত্র ব্যাবসায়ীদের কাছে তা বেশ ভাল দামে বিক্রি করেছিল। আর যে লোকটি তাকে এ ছবিটি আঁকিয়ে নিতে বলেছিল, তিনি তাকে একটি হৃদয়ের ছবি আঁকা ফলক উপহার দিয়েছিল।

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি

ভ্যারিচ্চিওর কাছে যোগদান (১৪৬৬ থেকে ১৪৭৬)

১৪৬৬ সালে লিওনার্দোর বয়স যখন ১৪, তখন তিনি ভ্যারিচ্চিওর কাছে শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগ দেন। ভ্যারিচ্চিওর পুর নাম আন্দ্রে দেয় দাই সায়ন, তিনি ছিলেন সে সময়ের একজন সফল চিত্রকর। ভ্যারিচ্চিওর কর্মস্থলে তৎকালীন গুণী মানুষদের সমাগম হত। আরও নামকরা যেসব শিল্পী ভ্যারিচ্চিওর তত্তাবধানে কাজ করত। বা তার ওয়ার্কশপে যাতায়াত করতো, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন গিরল্যান্ডিও পেরুগণ লরেঞ্জো দাই ক্রিডি। এখানে কাজ করে লিওনার্দো হাতে, কলমে প্রচুর কারিগরি জ্ঞানঅর্জন করেছিলেন। তার সুযোগ হয়েছিল কারুকার্য, রসায়ন, ধাতুবিদ্যা, ধাতু দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানানো, প্রাস্টার কাস্টিং, চামড়া দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানানো, গতিবিদ্যা এবং কাঠের কাজ ইত্যাদি শেখার। তিনি আরও শিখেছিলেন দৃষ্টিনন্দন নকশাকরা, ছবি আঁকা, ভাস্কর্য তৈরী করা এবং মডেলিং। ভ্যারিচ্চিওর ওয়ার্কশপে বেশিরভাগ কাজ করত তার অধস্তন কর্মচারীরা। ভাষারীর বর্ণনা স্বরূপ লিওনার্দো ভ্যারিচ্চিও কে তার ব্যাপ্টিজম অৰ ক্রাইস্ট ছবিটিতে সাহায্য করেছিল। ছবিটিতে দেখানো হয়েছে একটি দেবদূত যীশুর লাঠি ধরে আছে। ছবিটি ভ্যারিচ্চিও কে এতটাই অভিভূত করেছিল যে তিনি নাকি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর কখনো তুলিই ধরবেন না, ছবিও আঁকবেন না। তবে খুব সম্ভবত ভাসারি ঘটনাটি অতিরঞ্জিত করেছিলেন। সূক্ষ্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এ ছবিটির যে সব বৈশিষ্ট পরিচালিত হয় তা হল একটি বিশেষ পদ্ধতিতে তৈল রং দিয়ে আঁকা। ভ্যারিচ্চিও বেশ কয়েকটি কাজে লিওনার্দো মডেল হিসেবে ছিলেন। যেমন ডেভিড” চরিত্রে দি বার্জেল নামক ব্রোঞ্জ মূর্তিতে, আর্চঅ্যাঞ্জেল মাইকেল” হিসেবে” টোবিস এন্ড অ্যাঞ্জেল এ।
১৪৭২ সালে ২০ বছর বয়সে লিওনার্দো “গিল্ড অব সেন্ট লুক ” এর পরিচালক হবার যোগ্যতা অর্জন করেন। এই চিকিৎসক এবং চিত্রকরদের একটি সংঘ। কিন্তু তার বাবা তাকে নিজেদের ওয়ার্কশপের কাজে লাগিয়ে দেন। ভ্যারিচ্চিওর সাথে চুক্তি অনুসারে তিনি তার সাথেও কাজ চালিয়ে যান। লিওনার্দোর নিজের হাতে তারিখ দেওয়া সবচেয়ে পুরোনো ছবি হল আর্নোভ্যালী, তারিখটি হল ৫ই আগস্ট ১৪৭৩।

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির পেশাগত জীবন (১৪৭৬ থেকে ১৫১৩)

আদালতের নথি থেকে দেখা যায় একবার লিওনার্দো সহ আরও তিন জন যুবককে সমকামীতার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং তারা বেকসুর খালাসও পেয়েছিল। এরপর ১৪৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি কি করেছিলেন, কোথায় ছিলেন তার কিছুই জানা যায়নি। ধারণা করা হয় পরবর্তীতে ১৪৮১ সালে মস্ক অব সান ডোনাটো এ স্ক্যাপিট ” আকার দায়িত্ব পান। ভাসারির মতে লিওনার্দো সে সময়ের সেরা সংগীতজ্ঞ ছিলেন। ১৪৮২ সালে তিনি ঘোড়ার মাথার আকৃতির একটি বিনা তৈরী করেছিলেন। লরেঞ্জো দা মেডিসি, লিওনার্দোর হাতে এই বিনা উপহার স্বরূপ মিলানের ডিউক লুডোভিকো এল মোরো এর কাছে পাঠিয়েছিলেন শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করার জন্য। এ সময় লিওনার্দো ডিউকের কাছে একটি চিঠি লিখেন, যাতে ছিল তার উদ্ভাবিত বিভিন্ন চমকপ্রদ যন্ত্রের বর্ণনা। তিনি চিঠিতে নিজের চিত্রশিল্পী পরিচয়ের কথা লিখেছিলেন।
লিওনার্দো ১৪৮২ সাল থেকে ১৪৯৯ সালের মধ্যবর্তি সময়ে মিলানে কাজ করেছেন। এখানে তিনি অব দা রকস এবং দা লাস্ট সাপার ছবি দুইটি আকার দায়িত্ব পান। ১৪৯৩ সাল থেকে ১৪৯৫ এর মধ্যে তার অধিনস্তদের মাঝে ক্যাটরিনা নামে এক মহিলার নাম পাওয়া যায়। ১৪৯৫ সালে এ মহিলাটি মারা যান। সে সময় তার শেষকৃত্যর খরচ দেখে ধারণা করা হয় তিনি ছিলেন লিওনার্দোর মা।

আরও পড়ুনঃ Xiaomi Redmi K40 Review

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির শেষ জীবন (১৫১৩ থেকে ১৫১৯)

সেপ্টেম্বর ১৫১৩ থেকে ১৫১৬ পর্যন্ত অধিকাংশ সময় তিনি রোমে দশম পোপ এর অধীনে কাটিয়েছিলেন। অক্টোবর ১৫, ১৫১৫ তে যখন রাজা ফ্রান্সিস ১ম মিলান দখল করলেন তখন লিওনার্দো তার অধীনে কাজ শুরু করেন। তিনি তখন রাজার বাসভবনের পাশেই “ক্লস লুইস” নামক ভবনে বসবাস করতে শুরু করলেন যেখানে তিনি তার জীবনের পরবর্তী ৩ বছর অতিবাহিত করেন।”ক্লস লুইস” ভবন, ফ্রান্স যেখানে লিওনার্দো ১৫১৯ সালে মারা যান
২রা মে ১৫১৯ এ লিওনার্দো এই “ক্লস লুইস” ভবনে মৃত্যু বরণ করেন।

 

তো বন্ধরা আজ এই পর্যন্তই ,আশাকরি আপনাদের ভালো লেগেছে। যদি কোনো ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ আপনাকে আর্টিকেলটি পরার জন্য ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন বিদায় নিচ্ছি আজকের মত আল্লাহ্‌ হাফেজ।

আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন ( Flashfilex.com ) এর সাথে । যুক্ত হতে – এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.