September 21, 2021
মারিয়ানা ট্রেঞ্চ

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ এর অজানা রহস্য

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ এর অজানা রহস্য

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আপনারদের দোয়ায় আর আল্লাহর অসীম রহমতে ভালো আছি। বন্ধুরা অনেক দিন বাদে আজ আমি Murad Shardar আপনাদের সাথে আছি মারিয়ানা ট্রেঞ্চ এর অজানা রহস্য নিয়ে। প্রকৃতির রহস্য সবসময়ই মানুষকে ভাবিয়েছে। কৌতূহলী মানুষ প্রকৃতির সেই রহস্যভেদের নেশায় কখনও ভেলা ভাসিয়েছে সমুদ্রের অজানায় আবার কখনও বা যাত্রা করেছে মহাকাশের অসীমের পথে। প্রকৃতির রহস্যভেদের সেই যাত্রায় মানুষ পদানত করেছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গকেও। বাদ যায় নি অতল সমুদ্রের তলদেশও। প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে লুকিয়ে থাকা মারিয়ানা ট্রেঞ্চ যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ! “মারিয়ানা ট্রেঞ্চ” নামটার সাথেই জড়িয়ে আছে এক অসীম রহস্যময়তা। যার রহস্য ভেদ করতে মানুষ বারবার উপেক্ষা করেছে মৃত্যুর হাতছানি। আজ সেই রহস্যময় মারিয়ানা ট্রেঞ্চ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো আপনাদের।

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ

সপ্তদশ শতাব্দীতে স্পানিসরা প্রশান্ত মহা সাগরীয় দ্বীপ পূঞ্জে নিজেদের কর্ম স্থাপন করেন। এর পর স্পেনের রাজা চতুর্থ ফিলিপের রানী মারিয়ানা এর নাম অনুসারে এই দ্বীপ পূঞ্জের নাম করণ করা হয় মারিয়ানা দ্বীপ পূঞ্জ। এই দ্বীপ পূঞ্জ থেকে ২০০ কি.মি দূরে বিশ্বের গভীর তম সমুদ্র খাতের অবস্থান। নিকটবর্তী মারিয়ানা দ্বীপ পূঞ্জে নাম অনুসারে এই খাতের নামকরণ করা হয় মারিয়ানা ট্রেঞ্চ। কিন্তু অতুল সমুদ্র তোলে কি করে সৃষ্টি হলো এই খাতের । ধারণা করা হয় প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে থাকা দুটি টেক ট্রনিক প্লেটের সংর্ষে ফলে একটি প্লেট আর একটি প্লেটের নিচে ডুকে যায়।

আর তাতেই সৃষ্টি হয় মারিয়ানা ট্রেঞ্চ। মারিয়ানা ট্রেঞ্চ দৈর্ঘ্য ২৫৫০ কিলোমিটার বিস্মৃত হলেও অবিশ্বাস ভাবে এর প্রস্থ ৬৯ কিলোমিটার।১৮৭৫ সালে ব্রিটিশ জাহাজ এইচ এম চ্যালেঞ্জার প্রথম মারিয়ানা ট্রেঞ্চ সনাক্ত করে। এর পরে নিকটবর্তী মারিয়ানা দ্বীপ পূঞ্জ এর নাম অনুসারে এই সমুদ্র খাতের নাম করুন করা হয়। সমুদ্র গবেষণায় এই জাহাজটি ব্যাপক সফলতা পেয়ে ছিল। ১৮৭২-১৮৭৬ সালের মধ্যেবর্তী সময়ের মধ্যে ৭০ হাজার নটিক্যাল মাইল অভিযান শেষে,জাহাজটি প্রায় ৪৭০০ নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করেন। চার বছরের এই অভিজানের নাম দেয়া হয় চ্যালেঞ্জার এক্সপ্রেশন। এই অভিযানের এক পর্যায়ে তারা সন্ধান পান পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র খাত মারিয়ানা ট্রেঞ্চর। (মারিয়ানা ট্রেঞ্চ এর অজানা রহস্য )

বিভিন্ন সময়ে মারিয়ানা ট্রেঞ্চর গভীরতা মাপার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সমুদ্র এত নিচে প্রযুক্তির জটিলতা থাকায় কখন পুরপুরি সঠিক ভাবে এর গভীরতা মাপা সম্ভব হয়নি। তবে সমুদ্র বিঞ্জানীদের মতে মারিয়ানা ট্রেঞ্চরসর্বনিম্ন গভীরতা ১১হাজার ৩৪মিটার(৩৬ হাজার ২০১ফুট)। মারিয়ানা ট্রেঞ্চর এই গভীরতম স্থানের নাম দেওয়া হয় চ্যালেঞ্জার ডিপ। এইচ এম চ্যালেঞ্জার নাম অনুসারে নাম করণ করা হয় বিন্দুটির। তবে বিঞ্জানীরা মনে করছে আরো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করতে এই গভীরতা আরো বাড়বে। পূর্বে বলেছি মারিয়ানা ট্রেঞ্চর গভীরতম স্থানের নাম চ্যালেঞ্জার ডিপ। সমুদ্রপৃষ্ঠের এত গভীরে হওয়ার কারণে সেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না বলাই বাহুল্য।

তা হলে কি আছে এই চ্যালেঞ্জার ডিপে ,আধো কোনো প্রাণীর পক্ষে সেখানে বেঁচে থাকা সম্ভব। সম্ভব হলে সেখানকার বাস্তুতন্তের ব্যবহারি কেমন,কেমন সেখানকার পরিবেশ। সেসব তথ্য জানার চেষ্টা করবো আমরা। সূর্যের আলো থেকে অনেক দূরে থাকায় এই স্থান অনেক শীতল।এই স্থানের তাপমাত্রা স্বাভাবিক ভাবে (১-৪)সেলসিয়াস এর মধ্যেই থাকে। সমুদ্র এত গভীরে হওয়ার কারণে পানির চাপ প্রতি বর্গ এককে অনেক বেশি। সমুদ্র পৃষ্ঠের উপরি ভাগে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে পানির চাপ প্রায় ১বার। কিন্তু সমুদ্র তলদেশে চ্যালেঞ্জার ডিপে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে পানির চাপ প্রায় ১০৮৬ বার(৭.৮৭টন)যা উপরি ভাগের থেকে প্রায় ১০৭১ গুন বেশি।

তবে সূর্যের আলো না আপছেও চ্যালেঞ্জার ডিপের কিছু স্থানের পানির তাপ মাত্রা রোমাঞ্চকর। খাতের নিচে থাকা কিছু ছিদ্র পথে প্রায় ৭০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় কিছু গোলীয় পর্দাথ বেরিয়ে আসে। যা যেকোনো মানুষের শরীর পুড়িয়ে দিতে সক্ষম। তাই এখানে অবতরণ করলে সহজেই আপনার শরীর পুড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে চ্যালেঞ্জার ডিপ। তবে ভয় পাবেন না চ্যালেঞ্জার ডিপে অবতর্ন করতে আপনাকে পুড়ে মরতে হবে না। তার আগে অধিক পানির চাপ আপনার শরীর পিষ্ঠ করে ফেলবে। এখন প্রশ্ন হলো এত প্রতিকুল অবস্থাতে কি প্রাণীর অস্তিত্ব আছে।

১৯৬০ সালে যাকে পিকার্ড এবং ডন ওয়ালশ বেথিস্কোপ নামকযন্তের সাহায্যে অভিযান চালান চ্যালেঞ্জার ডিপে। সুইস ও ইতালি প্রযুক্তিতে নির্মিত বেথিস্কোপ ট্রিয়েস্ত এর সাহায্যে পৃথিবীর গভীর তম স্থানে অভিযান চালায়। ৫ ঘণ্টার চেষ্টাই তারা ১০ হাজার ৯১৬ মিটার পযন্ত নামতে সক্ষম হন। এই গভীরতায় তারা থাকতে পেরেছিলেন মাত্র ২০ মিনিট। ফিরে আসার পর তাদের বার বার প্রশ্ন করা হয়েছিল সমুদ্রের এত গভীরে প্রাণীর অস্তিত্ব আছে কি না। এত গভীরে কাদা মাটির তলানি থাকায় নিচ্ছিত ভাবে কিছু বলতে পারবেন না। তবে পিকার্ড দাবি করেন তিনি এই গভীরতম খাতে একটা ফ্ল্যাটফিশ দেখে ছিলেন। কিন্তু বিঞ্জানীরা তার এই দাবির সাথে একমত হতে পারে নি। বেপক পানির চাপের কারনে এত নিচে ক্যালসিয়াম দূবিভুত হয়ে যায়। ফলে হাড়ের গঠন সম্ভব নয়,এতে মেরু দণ্ড প্রাণীর বাস ও সেখানে অসম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  কালজয়ী চিত্র শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

তবে বিঞ্জানীদের এই ভুল ভাঙতে সময় লাগেনি। ২০১১ সালে মারিয়ানা ট্রেঞ্চর পরিচালিত এক অভিযানের অন্যানো অনেক অণুজীবের পাশাপাশি ৪ইঞ্চি দের্ঘ্যের এক প্রজাতির এক এমিবার সন্ধান পান বিঞ্জানীরা। ২০১৪ সালে মারিয়ানা ট্রেঞ্চ ৮১৪৫মিটার বা ২৬৭২২ ফুট গভীরে এক প্রজাতির স্নিফিশ আবিষ্কার করা হয়। যা সমুদ্রে গভীরে বসবাস করি সকল মাছের রেকট ভেঙে দিয়ে ছিল। এই অভিযানে অনেক নতুন প্রাণীর ও খোঁচ পেয়েছিলেন বিঞ্জানীরা। ২০১৭ সালে মারিয়ানা ট্রেঞ্চর ২৬৮০০ ফুট গভীরে এক অগেত স্নিফিশ এর আবিষ্কার বিঞ্জানীদের আগের সব ধারণাই পাল্টে দিয়ে ছিলো।যে কারনে বিঞ্জানীরা এখন মনে করেন মারিয়ানা ট্রেঞ্চ এ বেপক অনুসদ্ধান চালালে আরো অসংখ নতুন প্রজাতির প্রাণের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। অনেক বিঞ্জানীর মতে মারিয়ানা ট্রেঞ্চ এর অজানা রহস্য নিয়ে অপেক্ষা করছে আমাদের সামনে।

যার রহস্য ভেদ হলে খুলে যাবে বায়ো মেডিচিন ও বায়ো টেকনোলজির অসীম দোয়ার। অনেক বিঞ্জানী আবার মনে করেন মারিয়ানা ট্রেঞ্চ রহস্য ভেদ হলে তা সাহায্য করবে পৃথিবীর প্রাণ সৃষ্টির রহস্যের। তার দিনে দিনে রহস্যময় মারিয়ানা ট্রেঞ্চ হয়ে উড়েছে এত গুরুত্বপূণ। সমুদ্রের বিঞ্জানীরা আরো দিন দিন মরিয়া হয়ে উঠছেন মারিয়ানা ট্রেঞ্চ নিকষ কালো আঁধারে উপর আলোর জটা ছড়িয়ে দিতে। মারিয়ানা ট্রেঞ্চ পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন তল গুলোর একটি প্রায় ১৮০ মিলিয়ন বছর আগে এটি সৃষ্টি হয়ে ছিল। আগেই জানিয়েছি পৃথিবীর গভীর তম স্থান হলো চ্যালেঞ্জার ডিপ। আর জানেন নিচ্ছই পৃথিবীর উচ্চ তম স্থান হলো মাউন এভারেস্ট। মজার বিষয় হলো যদি পুড়ে মাউন এভারেস্ট তুলে এনে মারিয়ানা ট্রেঞ্চ ফেলা যায়,তবু মারিয়ানা ট্রেঞ্চর উপরি ভাগে ২ কিলোমিটার এর মতো জায়গা ফাঁকা থাকবে।

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ এর অজানা রহস্য

অথাৎ পৃথিবীর গভীর তম বিন্দুটি পৃথিবীর উচ্চ তম বিন্দুর থেকে ও গভীর তম। হলিউডের বিখ্যাত পরিচালক জেমস ক্যামেরুন কথা মনে আছে নিশ্চয়ই টাইটানিক কিংবা এভাটার মতো মাস্টার পিচ উপহার দেয়া এই জন প্রিয় পরিচালক দুরসাহসী এক অভিযানে নামেন। ছোট বেলা থেকে সমুদ্র প্রেমী এই পরিচাকলক মারিয়ানা ট্রেঞ্চ গভীরে অভিযানের সিদ্ধান্ত নেই। তিনি এবং তার টিম ৫ বছরে চেষ্টায় একটা নতুন নকশার ক্ষুদে সাফমেরিন তৈরী করে ফেলে। উপরন্ত ছবি তোলার জন্য এর সাথে যুক্ত করা হয় কিছু উচ্চ মানের ক্যামেরা ও বিঞ্জানীক যন্তপাতি। ২০১২ সালে জেমস ক্যামেরুন অভিযান চালান মারিয়ানা খাতের গভীরে। ২.৫ ঘন্টা অভিযানের পর সে এবং তার দল খাতের শেষ পযায়ে গিয়ে পৌঁছায়। প্রায় তিন ঘন্টা অবস্থান করে তিনি ফিরে আসে। ১৯৬০ সালের অভিযানের পর ক্যামেরুনেই অভিযানটা ছিল প্রথম সফল অবতরণ ।মজার বিষয় হলো তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসাবে চ্যালেঞ্জার ডিপের ছবি তোলেন। ( মারিয়ানা ট্রেঞ্চ এর অজানা রহস্য )

২০০৯ সালের তত কালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ মারিয়ানা ট্রেঞ্চকে USA national monument হিসাবে ঘোষণা করেন। এবং এ সম্পর্কে একটি আদেশ জারি করেন। এর পর থেকে মারিয়ানা ট্রেঞ্চ এ কোনো অভিযান বা গবেষণা করতে গেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হয়। আগেই জানিয়েছি পৃথিবীর বায়ু মন্ডলের চাপের থেকে এই গভীর তম স্থানের চাপের পরিমান ১০০০ গুন বেশি। যে কারনে অনেকের মনে এ প্রশ্ন টা জাগা স্বাভাবিক এতো প্রচন্ড চাপ সহ্য করে কোনো প্রাণীর পক্ষে বাস করা আধো সম্ভব কি না। তবে কয়েক দশক ধরে চলা বেশ কিছু অনুসন্ধান পর জানা গেছে আপাত অসম্ভব এই জায়গায় বাস রয়েছে অসংখ প্রাণীর। তবে এ প্রাণীরা যে পরিবেশে বাস করে তাও রীতি মতো বিস্ময়কর। লাখ লাখ টন পানির চাপি শুধু হজম করতে হয় না এদের,এখানে সূর্যের এল কখন প্রবেশ করতে পারে না এবং তাপমাত্রা থাকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। আর এই চরম পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হওয়ার কারনে এসব প্রাণীকে ডাঙায় তোলার সাথে সাথে এরা মারা যাই। যদিও সমুদ্রে এই গভীরতম জায়জায় এখন প্রযন্ত যে সব অভিযান চালানো হয়েছে তাতে খুব অল্প জানা হয়েছে এ প্রাণীদের বিষয়ে।

এই ছিল আমাদের আজকের আয়োজন আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে। এতক্ষন সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এরকম আরো ভালো ভালো পোস্ট পড়তে চাইলে আমাদের সাথেই থাকুন। সেই সাথে আমাদের কন্টেন্ট যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে লাইক ,কমেন্ট এবং শেয়ার করতে ভুলবেন না।ধন্যবাদ আপনাকে আর্টিকেলটি পরার জন্য ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন বিদায় নিচ্ছি আজকের মত আল্লাহ্‌ হাফেজ।

আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন ( Flashfilex.com ) এর সাথে । যুক্ত হতে – এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.