September 22, 2021
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০ টি জাহাজ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০ টি জাহাজ-Top 10 largest ships in the world

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০ টি জাহাজ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০ টি জাহাজ। হ্যালো বন্ধরা আশাকরি সকলে ভালো আছেন। আজকে আমি আবারো হাজির হলাম আর একটি নতুন এপিসোড নিয়ে। আজকে আমি আলোচলা করবো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০ টি জাহাজ সম্পর্কে। তো চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।
বিশ্বজুড়ে এতো বড় বড় জাহাজ আছে যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। এই সব জাহাজগুলোর সাথে মানুষ সর্বদাই অনেক বড় বড় বিল্ডিং গুলোর তুলনা করে থাকে। যেমন Empire Building, Burj Khalifa, CS Tower, এবং Petronas Tower। মানুষ জানে টাইটানিক পৃথিবীর সবচেয়ে বোরো জাহাজ। বর্তমানে মানুষ টাইটানিকের সাথে আরো অনেক বড় বড় জাহাজের সাথে, তুলনা করে।

RMS Queen Mary 2

RMS Queen Mary 2, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী জাহাজ। এটা তৈরি করা হয়েছিল Queen Elizabeth II এর পরিবর্তে মহাসাগর চলাচলের জন্য। Queen Mary 2 অন্যান্য জাহাজের মতো কোন বাস্প চালিত জাহাজ নয়। এটিতে চারটি ডিজেল চালিত ইঞ্জিন থাকার কারণে এটি অন্যান জাহাজের তুলনায় বেশি দ্রুতবেগে চলতে পারে। এর গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫ মাইল। এর মধ্যে আছে ১৫রেস্টুরেন্ট, ৫ টি সুইমিংপুল,২ টি থিয়েটার, ১ টি ক্যাসিনো ১টি বল রুম। আর এটি পৃথিবীর প্রথম প্লারেটারিয়াম জাহাজ। আকৃতির বিশালতা আর সুনিপুন নির্মা সৈলীর জন্য Queen Mary 2 একটি অনবদ্দ নাম। এর ভিতরে রয়েছে ২ হাজার ৩৪ ফুট পায়চারি করার জায়গা।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০ টি জাহাজ

Nuclear ice breaker

Nuclear ice breaker, জাহাজটি পারমাণবিক শক্তিতে চলে। এটি উত্তর মহাসাগরে চলে যার জল সম্পূর্ণ বরফে ঢাকা। রাশিয়াই একমাত্র দেশ যেটি পারমাণবিক শক্তিতে চলা জাহাজ নির্মাণ করেছে। ডিজেল ইঞ্জিন চলা জাহাজের থেকে পারমাণবিক শক্তিতে চলা জাহাজ অনেক বেশি শক্তিশালী হয়।Nuclear ice breaker জাহাজ তৈরি করতে এবং রক্ষনা বেক্ষন করতে অন্নান জাহাজের তুলনায় অনেক বেশি খরজ হয়ে থাকে। শীতকালে উত্তর মহাসাগরের জলেতে বরফের পুরুত্ব থাকে প্রায় ৭ ফুট এবং সাগরের উত্তর মেরুতে বরফের পুরুত্ব থাকে প্রায় ৮ ফুট। এই ice breaker জাহাজ এমনি পুরু বরফ ভেঙ্গে চলাচল করে। এবং এর গতিবেগ থাকে ঘন্টায় প্রায় ১২ কিলোমিটার।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০ টি জাহাজ

TI-class supertanker

TI-class supertanker, পৃথিবীর সবথেকে বড় TI-class supertanker, পৃথিবীর সবথেকে বড় তেলবাহী ট্যাংকার গুলো অপারেট করছে T.I-class supertanker। এটি ২০০২ সালে নির্মাণ করা হয়। T.I এর পুরো কথা হচ্ছে tankers international। তেলবাহী ট্যাংকার কেটাকোরির নাম ulcc (ultra large crude carrier)এর মধ্যে ট্যাংকার গুলো পৃথিবীর সবথেকে বড়। এগুলোর মূল্য ১২০ মিলিয়ন ডলার। এই ট্যাংকার গুলোর মধ্যে উল্লেখ্যুগ ৪ টি ২০০২ সালে সাউদ করিয়ার ডিভোসী বিল্ডিং এর মেরিড ইঞ্জিনিয়ার কম্পানি দ্বারা নির্মিত করা হয়। জাহাজ গুলো ছিল প্রায় ১২০০ ফুট লম্বা। ২০০৪ সালে Overseas Shipholding Group এই ৪ তীর মধ্যে ২ টি জাহাজ কিনে নেয়। এবং এদের নাম দেয় T.I Oceania and Africa।

Maersk Triple E Class

Maersk Triple E Class, যারা কোন পোর্টের আশেপাশে থাকেন তাদের কাছে Maersk container ships একটি পরিচিত নাম। Triple E Class ২০১১ সালে ওই সময়ের পৃথিবীর সব থেকে বড় জাহাজ ছিল। Triple E Class মধ্যে ছিল economy of scale, energy efficient, and environment improved, যখন আপনি কোন বিশাল container ship দেখবেন তখন আপনি তার মধ্যে প্রচুর সংখ্যক container দেখতে পাবেন। E Class container ship এ প্রস্তুত দিকথেকে ছিল ২৩ সাড়ির container,এবং উচ্চতার দিকছিল container ছিল ১০ সাড়ির। এটিতে মোট ১৮ হাজার container রাখা যেত। যখন এটি সাগরে চলতো তখন এটির গতি থাকতো ২৫.৫ knots। এটিতে ছিল ২ টি ডিজেল ইঞ্জিন যার একেকটির ওজন ছিল ২.৩০০ টন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০ টি জাহাজ

cscl globe

cscl globe, এই জাহাজটি নির্মাণ করা হয় ২০১৪ সালে। যা ছিল এই সময়ের সবথেকে বড় জাহাজ। সাউদ কোরিয়ার উলসানে Hyundai Heavy company দ্বারা নির্মিত সবথেকে বড় জাহাজ এটি। এটি ১২০০ ফুট লম্বা ২০০ ফুট চওড়া এবং ১০০০ ফুট গভীর। এটি সাইজে ৪ টি ফুটবল মাঠের সমান। যা ১৯ হাজার ১০০ টি বহন করতে পারতো। এটির ছিল সবথেকে বড় ইঞ্জিন যা ৬৯ হাজার ৭২০ কিলো ওয়ার্ড বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারতো।

Oasis of the Seas

Oasis of the Seas, এই বিশাল জাহাজটি Royal Caribbean এর একটি অংশ। এটি বড় বড় সামুদ্রিক জাহাজগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। এটি ছিল ১২০০ ফুট লম্বা ২১৫ ফুট চওড়া এবং এটির ওজন ছিল ২ লক্ষ ২৫ হাজার টন। এই জাহাজে ২,৭৪২ টি ক্যাবিনে প্রায় ৭০০ গেস্ট থাকতে পারতো। এবং এর নাবিক সংখ্যা ছিল মোট ২,১০০ জন। এটার মধ্যে ছিল একটি সেন্ট্রাল পার্ক,১০ টি সুইমিং পুল,একটি থিয়েটার পুল,যার গভীরতা ছিল ৮ ফুট। এছাড়াও ছিল একটি বাস্কেট মাঠ, একটি ফিটনেস সেন্টার, এবং একটি মুভি থিয়েটার। যদি আপনি বোরিং ফিল করেন তবে আপনি এর ভেতরে সারপিংও করতে পারবেন। এর মধ্যে ছিল ২০ জন সেপবিশিষ্ট ২০ টি রেস্টুরেন্ট। এবং ২২২ জন কুক।

আরও পড়ুনঃ Check Sim Number : 5 টি অপারেটরের ভুলে যাওয়া সিমের নাম্বার এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু কোড

MV Blue Marlin

MV Blue Marlin,আচ্ছা ভাবুনতো একটি জাহাজ আরো কয়েকটি জাহাজকে নিয়ে যাচ্ছে তাহলে দৃষটি কেমন হবে। এই জাহাজটি সাধারণত যুদ্ধের নষ্ট হয় যাওয়া জাহাজ বহন করে থাকে। এটি হচ্ছে HLC, or heavy load carrier এটি ২০০০ সালে ডাস কোম্পানির ডকোয়াস তৈরি করেছিল। এই জাহাজের ডিসাইন করা হয়েছিল আধা ডোবা জাহাজ বহন করার জন্য। যেগুলো কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েগেছে বা তার পাটাতনের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে। যখন জাহাজটি খালি করা হয় তখন এটি পুনরায় ভেসে ওঠে। এটি লম্বায় ১৩০০ ফুট এবং ওজন ৫৬ হাজার মেট্রিক টন। এই জাহাজের নাবিক সংখ্যা ৬০ জন এবং ক্যাবিন সংখ্যা ৩৮ টি।

seawise giant

seawise giant, ১৯৭৯ সালে জাপানে তৈরি করা হয়। এটি বিশ্বের অনেক উঁচু বিল্ডিং এমন নয়া ইয়র্ক এর Empire Building এবং কুয়ালালামপুর এর Petronas Building এর থেকেও লম্বা। এটি লম্বায় ১৫০০ ফুট বৈশিষ্ঠর কারণে এটিকে ৫টি আলাদা আলাদা নাম ডাকা হয়। যেমন seawise giant, happy giant, jahre viking, knock nevis, mont এটি জাপানের Sumitomo heavy industries limited কোম্পানির কারখানায় তৈরি করা হয়।

planet solar

planet solar, রাশিয়ার Nuclear ice breaker এর একদম বিপরীত জাহাজ হচ্ছে এই planet solar। এটি হল সবথেকে বড় সৌরশক্তি দ্বারা চালিত জাহাজ। এটি ২০১০ সালের মার্চ এ চলাচল শুরুকরে। এই ১০০ টোনের জাহাজটি চলাচলের জন্য ৫.৫০০ বর্গ ফুট সোলার সিস্টেম প্যানেল লাগানো হয়েছে। যা প্রায় ৯ টন লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী চার্জ করে। এই জাহাজের প্রধান লক্ষ হচ্ছে মানুষকে বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং পরিবেশ ধূষণ মুক্ত রাখার দিকথেকে সচেতন করা।

Q-max ship

Q-max ship, বিশাল আকার Q-max ship ছিল একটি tang ship। যাকে বলা হতো এলএনজি যার পূর্ণ রূপ Lycophy natural gas। q max জাহাজটি ২০০৯ সালে সাউথ কোরিয়ার Samsung heavy industry কোম্পানি তৈরি করে ছিল। ওই সময় একসাথে ১৪ টি জাহাজ তৈরি করে হয়। q এর পূর্ণরূপ হচ্ছে কাতার এবং max এর পূর্ণরূপ হচ্ছে maximum size of ship এটির ধারণ ক্ষমতা ছিল ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ঘনফুট গ্যাস। ২০০৯ সালে এটির গন্তব্য ছিল সুয়েজখালের পতেইস্কনের বিলবাও।

তো বন্ধরা আজ এই পর্যন্তই ,আশাকরি আপনাদের ভালো লেগেছে। যদি কোনো ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ আপনাকে আর্টিকেলটি পরার জন্য ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন বিদায় নিচ্ছি আজকের মত আল্লাহ্‌ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.