September 22, 2021
দাঁতে পোকা

বাচ্চাদের দাঁতে পোকা ধরলে কিভাবে তা দ্রুত সেরে তুলবেন!!!

দাঁতে পোকা ধরলে কি করবেন?

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আজকে আমি আলোচনা করবো দাঁত নিয়ে। বাচ্চাদের দাঁতে পোকা ধরলে কিভাবে তা দ্রুত সেরে তুলবেন। প্রায় প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যেই একটা ভ্রান্ত ধারনা হচ্ছে দাঁত সম্পর্কে বেশি অবহেলা। শরীরের অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের চেয়ে দাঁত সম্পর্কে তাদের সচেতনতা তাদের খুবই কম। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে যে বাঙ্গালি দাঁত থাকতে দাতের মর্যাদা বুঝে না ।

ত দেখা যাচ্ছে যে দাঁতে খুব শুরুতেই খুব সামান্য একটু  শিরশির করতেছে বা শুরুতেই হয়ত একটু  কোন রকম ব্যাথা পাচ্ছেন তখন কোন রকম একটা ব্যাথা নাশক ঔষুধ খাচ্ছেন। হয়ত দেখা যাচ্ছে কিছু সময়ের জন্য ব্যাথা কমে যাচ্ছে কিন্তু যেটা সমস্যা হচ্ছে যে দাতের ব্যাথা টা বা দাতের তীব্র ব্যাথা টা হটাত করে এক দিনে প্রকাশ পায় না। ভিতরে যখন দাতের নার্ভ যেটাকে ডেন্টাল পাল্প বলে। নার্ভের যদি ইনফেকশান ছড়িয়ে যায় তখন হটাত করে কোন এক রাতে তীব্র ব্যাথা শুরু হয়। ত কান মাথা এই সব নিয়ে ব্যাথা শুরু করে।

দাঁতের পোকা খাওয়াঃ

অনেকেই বলেন যে আমার দাঁতে পোকা খেয়ে গেছে । তো সেই সমস্যা টা থেকে হটাত করেই গর্তটা বাড়তে বাড়তে এক সময় দাঁতে ব্যাথা অনুভূত হয় । প্রথমত দাঁতের সবচেয়ে বাহিরে যে সার্ফেস থাকে তাকে বলা হয় এনামেল। আমরা অনেকেই জানি এনামেল কে আমরা বলে থাকি যে enamel is the toughest structure of the body. এনামেল টা সবথেকে বেশি শক্তিশালী।

এই এনামেল টা ক্ষয় হয়ে যায় যদি আপনার মুখে কোন খাবার আপনি খাচ্ছেন সেই খাবার টা হয়ত রয়ে গেছে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বার তার ও বেশি। হতেই পারে যে দেখা যাচ্ছে যে আমরা ব্রাশ করতেছি ব্রাশ করার পরও দাঁতে কোন খাদ্য কণা কোন দাঁতের কোন এক ফাঁকে রয়ে গেছে। যেটা হয়ত পরিষ্কার হলো না।

ত ওই খাদ্য কণা টা ওই দুই দাঁতের মধ্যে দিয়ে হক বা দাঁতের কোন একটা অংশে আটকে পরা খাদ্য কণা হক সেখান থেকে এসিড সিক্রেশান করে যদি কিনা ৪৮ ঘণ্টার পর খাবার টা মুখে থেকে যায়। এসিড সিক্রেশান করে এটাকে লেকটিক এসিড বলে । তখন দাঁতের উপড়ের আবরণ টা ক্ষয় হতে থাকে। তখন আমরা বলই এনামেল ক্ষয় হয়ে যায়।

দাঁতে পোকা

ডেন্টিনঃ

দাঁতের এনামেলের পর যেটা থাকে সেটা ডেন্টিন। এটাতে যখন ক্ষয় হয়ে ডেন্টিন এক্সপোজ হচ্ছে তখন রোগী কমপ্লেইন করে যে আমার দাঁত্যা শিরশির করছে । বিশেষ করে মিষ্টি জাতীয় খাবার টক জাতীয় খাবার কিংবা ঠাণ্ডা পানি এসব খেতে গেলে শিরশির করে । ত আমরা এই সব কম্লপেইন ও পেয়ে থাকি। এইটার পরে যখন এই লেয়ার টা ক্ষয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যখন ট্রিটমেন্ট করা হয় না তখন দেখা যাচ্ছে আরও ডিপলি গর্ত হতে থাকে। একটা সময় সেটা দাঁতের নার্ভ এ বা পাল্পে পর্যন্ত ইনফেকশান পর্যন্ত চলে যায় এবং তখন অনেক বড় গর্ত হয় খাবার অনেক সময় আটকে থাকে। বার বার করে পরিষ্কার করতে হয়। অনেক রোগী বলেন যে আমি খাবার খাওয়ার পরে খাবার টা ভিতরে আটকে থাকে।

কোন একটা পিন দিয়ে বা টুথ পিক দিয়ে খুঁচিয়ে খাবারটা সেটা বের করতে হয়। যতক্ষন খাবার টা বের না করছি ততক্ষন ব্যাথা টা যাচ্ছে না। ত এই রকম সমস্যা কে আমরা বলে থাকি রিভারসিবল পাল্পাইটিস। এই রিভারসিবল পাল্পাইটিস টা হচ্ছে এই ব্যাথাটা নার্ভে ছড়িয়ে যায় এবং খাবার বা বাহিরের কোন একটা বস্তু ভিতরে ঢুকে যায়। দেখা যাচ্ছে যে সেটা হতে পারে টুঠপিকের ভাঙ্গা অংশ এগুলো ভিতর থেকে যতক্ষণ পরিষ্কার না হবে ততক্ষণ ব্যাথা থেকেই যাবে।

ত এই রকম কন্ডিশন গুলোতে আমরা রোগীকে পরামর্শ দিয়ে থাকি যেটা সেটা হচ্ছে যে ফিলিং করতে হয় এবং কোন কোন ক্ষেত্র বিশেষে ফিলিং সম্ভব হয় না সেই ক্ষেত্রে রুট ক্যানেল পর্যন্ত করতে হতে পারে। যদি ছোট একটা গর্ত হয় দাঁতের কোন একটা ছোট কালো অংশ বা ছোট একটা ছিদ্র দেখা যায়। শুরুতেই যদি ট্রিটমেন্ট করা যায় সেখানে যদি ফিলিং করি তাহলে সেই দাঁত টা কে আমরা রক্ষা করতে পারি।

এবং দেখা যাচ্ছে যে শুরুতেই যদি এই ট্রিটমেন্ট গুলো করা যায় তাহলে রোগীর এক দিনেই সেই ট্রিটমেন্ট করা সম্ভব হয়। ট্রিটমেন্ট টাকার দিক দিয়ে ও রোগী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ফিলিং এর টাকা বাংলাদেশে সব জায়গাতেই কম আসে আর রুট ক্যানেলের খরচ সব জায়গাতেই বেশি আসে।

দাঁতে পোকা

যখন দেখি অনেক বড় গর্ত এবং নার্ভে ইনফেকশান হয়ে গেছে বা পুঁজ বের হচ্ছে বা মাড়ি ফুলে গেছে এই রকম যদি হয়ে থাকে আমরা সাধারণত একটা দাঁতের এক্স রে করে থাকি এবং এক্স রে করে দেখতে পাই যে দাঁতের গোঁড়ার নিচের দিকে ইনফেকশান তখন সেই দাঁত টাকে আমরা রুট ক্যানেল করে রাখি। দাঁত আমরা তুলে দেয় না।

অনেকেই আছে গ্রামে গঞ্জে বা অনেক আগে দেখা যেত যে দাঁতে একটা বড় গর্ত তাহলে দাঁত ফেলে দিতে হবে। দাঁত রাখার কোন উপায় নাই। কিন্তু এখন অনেক ভাবে ট্রিটমেন্ট করা যায়। রুট ক্যানেল করে সেটাকে আবার সেটাকে ক্যাপ বসিয়ে ওই ন্যাচারাল দাঁত টাকে আমরা আবার আগের পর্যায়ে ফেরত পাচ্ছি। এবং স্বাভাবিক সব কিছু খেতে পারছি এবং কথা বলতে পারছি। এমনকি দাঁতের কালার ম্যাচিং ক্যাপ করানো হয়। রং ম্যাচ করিয়ে ক্যাপ করা হয় সেটা অন্য কোন মানুষ হক বা রোগী হক সহজে কেউ ধরতে পারেন না যে এটা ন্যাচারাল নাকি আর্টিফিসিয়াল।

ত আমরা এই রুট ক্যানেল করে এই দাঁত টা কে প্রিসারভ করতে পারতেছি। এখন দেখা যাচ্ছে যে আমরা তারপর ও কিছু কিছু দাঁত রুট ক্যানেল করা ও অনেক সময় সম্ভব হয়ে থাকে না । যখন অনেক বেশি গর্ত এবং রোগী এটাকে অবহেলা করতেছে যে ঠিক আছে আমি ঔষুধ খেয়ে ব্যাথা নাশক খেয়ে খেয়ে ব্যাথা টা কমিয়ে রাখছি ত দেখা যাচ্ছে কোন এক সময় পুঁজ হচ্ছে আবার এন্টিবায়োটিক খাচ্ছে । তার ব্যস্ততার কারনে ডাক্তারের কাছে যেতে পারছেন না এই রকম নানান কারনেই হয়ত এই দাঁত টা সামনে ব্যাথা হচ্ছে আবার ভালো হচ্ছে আবার ব্যাথা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ নিস্তেজ ত্বক এবং চুল ক্ষতি রোধ করতে কী করবেন?

এই রকম একটা কন্ডিশনে দাঁতের যে গর্ত টা বা ব্যাক্টেরিয়াল যে ইনফেকশান টা কিন্তু বসে থাকে না ।হয়ত আমরা বুঝতে পারি না ব্যাথা টা আমরা বুঝতে পারি না কিন্তু দাঁতের গর্ত টা ভিতরে ভিতরে ঠিকি ওই টা বাড়তে থাকে। ত ভিতরে এমন একটা সময় হয়ে যায় যে ডিমের খোলসের মত তখন আর রুট ক্যানেল করার মত পর্যায় হয়ে যায় তখন দাঁত টা কে ফেলেই দিতে হয়।

ত একটা ন্যাচারাল দাঁত কোন কারনে ফেলে দিতে হয় তাহলে এটার আর্টিফিসিয়াল প্রস্তেসিস আমরা করি মানে দাঁত টা আমরা বাধায় করি। দাঁত বাধায় করার বিভিন্ন রকম অপশন আমাদের আছে বাট তারপর ও আমরা বলে থাকি। তবে ন্যাচারাল দাঁত কে আমরা প্রিসার্ভ করতে পারি রক্ষা করতে পারি সেটায় আমাদের জন্য সবচেয়ে মঙ্গল জনক। কার্বন একটা আর্টিফিসিয়াল দাঁত কখনোই ন্যাচারাল দাঁতের মত সমান হতে পারবে না। তাই আমরা ন্যাচারাল দাঁত টা কে রক্ষা করার চেষ্টা করি।

যখন আমরা ন্যাচারাল দাঁত টাকে কোন কারনে ফেলে দিতে হলো এই দাঁতটার আমরা রিপ্লেস্মেন্ট হিসেবে আর্টিফিসিয়ালি প্রস্তেসিস যেটা কয়েক  রকমে করা হয়। একটা হচ্ছে আলগা ভাবেই যেটাকে আমরা বলি রিমুভেবল পার্শিয়াল রেঞ্চার। মানে এখানে রোগী নিজেই ওই আলগা দাঁত টা পড়তে পারেন। আবার রোগী চাইলে খুলে ওইটা পরিষ্কার করতে পারেন। বা খুলে যে কোন পাত্রে রাখতে পারেন।

দাঁতে পোকা

close-up of a young woman holding her cheek in pain

দাঁত ব্রীচ পদ্ধতিঃ

আরেকটা হচ্ছে ফিক্সড পার্শিয়াল রেঞ্চার। মানে দাঁতে ব্রীচ পরানো । কোন একটা দাঁত যদি না থাকে তাহলে তার পাশের আগের এবং পিছনের এই দুটো দাঁতে সাপোর্ট হিসেবে আমরা ব্যাবহার করে সেখানে ক্যাপ বসিয়ে সেটাতে আমরা ব্রীচ হিসেবে ব্যবহার করতে পারি এবং সেই দাঁত টা ফিক্সড পার্মানেন্ট প্রসেসেস বলা হয়। মানে এখানে অন্য কোন অপশন থাকে না। এই দাঁত টা ফিক্সড দাঁত বাধায় পদ্ধতি বলা হয়ে থাকে স্থায়ী দাঁত বাঁধনি পদ্ধতি বলা হয়ে থাকে।

দাঁত প্রতিস্থাপন পদ্ধতিঃ

যদি দাঁত না থাকে সেটা হচ্ছে ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট । ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট হচ্ছে শরীরের অন্যান্য ইমপ্ল্যান্টের মতই খুবই এডভান্স টেকনিক যেমন কোন হেয়ার ইমপ্ল্যান্ট করা হচ্ছে কিডনি ইমপ্লেন্টেশান হচ্ছে সেই রকমই আমরা ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট করে থাকি। ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট অনেক ব্যয় বহুল।

বিস্তারিত জানতেঃ দাঁতে পোকা বা ক্ষয়রোধে পরামর্শ

Leave a Reply

Your email address will not be published.