September 24, 2021
ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস কি ও কেন হয়?

ডায়াবেটিস কি ও কেন হয়?

আসসালামুয়ালাইকুম, আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আপনাদের দোয়ায় আমিও ভালো আছি। আজকে আমি আলোচনা করবো ডায়াবেটিস নিয়ে। ডায়াবেটিস একটা কোমন রোগ। যে জানা এবং বুঝা খুব জরুরী। কেননা ডায়াবেটিস সম্পর্কে আমরা জানতে পারি তাহলে ডায়াবেটিসের যে ভয়াবহতা এটাকে আমরা কমিয়ে আনতে পারবো।ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস কি?

তাহলে প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিস একটি বিপাক জনিত রোগ। যার কারনে আমাদের শরীরের ইন্সুলিনের পরিমাণ কমে যায় অথবা যতটুকু ইনুলিন আছে সেটা কাজ করতে পারে না। ত ইনসুলিন যদি কমে যায় অথবা ইনসুলিন যদি কাজ না করতে পারে তাহলে আমাদের শরীরে সুগারের পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। এবং আমরা যা খাচ্ছি আমাদের এই খাবারের মধ্যে যে গ্লুকোজ আছে অর্থাৎ যে সুগার টা আছে সেটা কোষের মধ্যে ঢুকতে পারে না যার ফলে রক্তের মধ্যে চিনিটা অথবা সুগার টা ভাসতে থাকে। এবং এই সুগার বিভিন্ন জায়গায় যায় এবং আমাদের শরীরের কিডনি, ব্রেইন, পায়ের রক্ত নালী, এবং এই সব জায়গায় গিয়ে বিভিন্ন রকম জটিলতা তৈরি করে।

তাহলে কথাটা হচ্ছে যে ইনসুলিনের অভাবে যদি সুগার বাড়তে থাকে এবং এটা একটি নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি বেড়ে যায় তাহলে এটাকে আমরা বলবো ডায়াবেটিস। ত আসুন জেনে নেওয়া যাক ডায়াবেটিস কত ধরনের।

ডায়াবেটিসের ধরনঃ

ডায়াবেটিসকে আমরা সাধারণত ৪ ভাগে ভাগ করে থাকি।

১। টাইপ ১ ডায়াবেটিস।

২। টাইপ ২ ডায়াবেটিস।

৩। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস।

৪। এনাদার স্পেসিফিক টাইপ।

১। টাইপ ১ ডায়াবেটিস ঃ

এটা সাধারণত বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হয়। এবং আমাদের দেশে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের সংখ্যা শতকরা ৫ ভাগ।

২। টাইপ ২ ডায়াবেটিসঃ

এটা সব থেকে কোমন। বাংলাদেশে শতকরা ৯৫ ভাগই টাইপ ২ ডায়াবেটিস। এবং এই টাইপ ২ ডায়াবেটিসে সাধারণত বয়স কালে হয়ে থাকে। ৩০ বছর বয়সের পর হয়ে থাকে। কিন্তু ইদানীং আমরা দেখতে পাচ্ছি বাচ্চাদের ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস হতে পারে যদি বাচ্চা মোটা হয়ে যায়।

৩। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসঃ

আরেক ধরনের ডায়াবেটিস আছে যেটাকে আমরা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলে থাকি।এটাও খুব গুরুত্ত্বপূর্ন । কারণ সময়ের সাথে সাথে গর্ভকালিন ডায়াবেটিসের  সংখ্যাও অনেক বেড়ে চলেছে।

৪। এনাদার স্পেসিফিক টাইপঃ

অন্য কোন রোগের কারনে বা ঔষুধ কারনে এই ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। ঔষুধ যেটা হচ্ছে স্টেরয়েড আমরা বাত ব্যাথ্যার জন্য খেয়ে থাকি, আমরা শ্বাস কষ্টের জন্য খেয়ে থাকি, আমরা চর্ম রোগের জন্য খেয়ে থাকি, আমরা মোটা হওয়ার জন্য খেয়ে থাকি, আবার ফর্সা হওয়ার জন্যও এই ঔষুধ খেয়ে থাকি।

চিকিৎসক একটা মাত্রায় একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই ঔষুধ দেন। কিন্তু যদি রোগী তার ইচ্ছে মত ঔষুধের পরিমাণ অথবা সময় বাড়িয়ে নেয় তাহলে কিন্তু এই জটিলতা দেখা দেয় এবং এই ঔষুধের কারনে আমাদের ডায়াবেটিস হয়ে যেতে পারে।

তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম ৪ ধরনের ডায়াবেটিস। টাইপ ১ ডায়াবেটিস, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এবং এনাদার স্পেসিফিক টাইপ অব ডায়াবেটিস।

ডায়াবেটিস কাদের হবে?

তাহলে এই ডায়াবেটিস কাদের হবে? সবার কি এই ডায়াবেটিস হবে? এটি কিন্তু আগে থেকে বুঝার উপায় আছে। অথবা এটা আগে থেকেই মিজার করার উপায় আছে যে কার ডায়াবেটিস হবে। যেমন যার বংশে ডায়াবেটিস আছে তার কিন্তু ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা খুব বেশি। যার ওজন বেশি বি এম আই আমরা বলি ওজন এবং উচ্চতার অনুপাত যার ২৩ এর বেশি হয়ে যাবে তার ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি। এবং যাদের হাটা হাঁটি করার অভ্যেস কম যাদের চলাফেরা খুব কম হয় এবং অনেক বেশি খায় এবং যারা কম ঘুমায় তাদের কিন্তু ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি থাকে।

বিস্তারিত জানতে ঃ Perfect BMI: জেনে নিন আপনার আদর্শ ওজন কত হওয়া উচিত

আর ঔষুধের কথা ত আমরা আগেই বলেছি যে ঔষুধের কারনে অনেক সময় ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা থাকে। এবং আগের বা গর্ভবতীদের ডায়াবেটিস হয়ে থাকে তাহলে কিন্তু তার ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি থাকে। এই ধরনের রিস্ক ফ্যাক্টর গুলো যারা অনেক স্ট্রেস ফুল থাকে যারা অনেক অস্থিরতার মধ্যে থাকে তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি থাকে।

ত আমরা যেগুলো বললাম তার অনেক কিছুই কিন্তু আমাদের হাতের নাগালের বাহিরে । শুধুমাত্র ফ্যামিলি হিসটিরি ছাড়া যে আমার বংশে ডায়াবেটিস আছে যে আমার ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা বেশি  সেটা ছাড়া কিন্তু বাকি সব গুলোই আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। এটাকে আমরা বলি মডিফাইয়েবল রিস্ক ফ্যাক্টর ।

ডায়াবেটিস

রিস্ক ফ্যাক্টরঃ

রিস্ক ফ্যাক্টরকে আমরা ২ ভাগে ভাগ করি।

১। মডিফাইয়েবল রিস্ক ফ্যাক্টরঃ যেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে পারি যে রিস্ক গুলো কে ।

২। নন মডিফাইয়েবল রিস্ক ফ্যাক্টরঃ যেটা আমরা পরিবর্তন করতে পারবো না যেমন বংশের ইতিহাস।

তাহলে আসুন আমরা যে রিস্ক ফ্যাক্টর গুলো যেগুলো আছে সেগুলো কে আমরা মডিফাই করে ডেইলি হেঁটে, খাওয়া দাওয়া কন্ট্রোল করে, ওজন কমিয়ে, ঠিক মত ঘুমিয়ে অযথা আমরা যদি অপ্রয়োজনীয় ঔষুধ সেবন না করে সহজেই কিন্তু আমরা ডায়াবেটিসটা কে প্রতিরোধ করতে পারি।

ডায়াবেটিস

আরও পড়ুনঃ যে ১০টি লক্ষণ দেখলে ডায়াবেটিস রোগের পরীক্ষা করাতে হবে

ডায়াবেটিস প্রতিরোধঃ

প্রতিরোধ করা টা কেনো জরুরী? কারন ডায়াবেটিস টা কিন্তু একটা ব্যয় বহুল রোগ। এবং এর  রয়েছে নানা বিধ জটিলতা।

জটিলতাঃ

ডায়াবেটিস হলে ডায়াবেটিস যদি ঠিক মত নিয়ন্ত্রণ না করতে পারি তাহলে কিন্তু দেখা যায় নানা রকম জটিলতা দেখা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রধান জটিলতা যেটা থাকে সেটা হচ্ছে যে হার্টের সমস্যা ( কার্ডিয়াক এরেস্ট)। ডায়াবেটিস যাদের থাকে তাদের কিন্তু অন্যদের থেকে হার্ট এটাক্ট হওয়ার সম্ভবনা প্রায় দিগুণ থাকে। সুতরাং এটাকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে। আরেকটা হচ্ছে যে ব্রেইন স্ট্রোকের সম্ভবনা ডায়াবেটিস রোগীদের ৬ গুন বেড়ে যায়। কিডনি ফেইলর হওয়ার সম্ভবনাও প্রায় ৫ থেকে ৬ গুন বেড়ে যায়।

এবং যাদের ডায়াবেটিস থাকে তাদের কিন্তু যৌন অক্ষমতা হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। প্রায় ৩০ থেকে ৯০ ভাগ পুরুষ এবং মহিলা কিন্তু যৌন অক্ষমতায় ভোগেন যদি ডায়াবেটিস টা কন্ট্রোল না থাকে। পায়ের রক্ত নালী ব্লক হয়ে পা কাটার সম্ভবনা ও প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ভাগ বেশি থাকে যদি ডায়াবেটিস কন্ট্রোলের বাহিরে থাকে। চোখ নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা থাকে। পুরো পৃথিবী জুড়েই কিন্তু অন্ধত্বের যদি আমরা প্রতিরোগ যোগ্য কারন বলি তাহলে কিন্তু ডায়াবেটিস ১ নাম্বারে চলে আসে। রাত কানা রোগ যেটাকে বলি আমরা ভিটামিনের অভাবে হয় সেটা কিন্তু বাংলাদেশে এখন আর দেখা যায় না।

সুতরাং এখন দেখা যাচ্ছে যে মেডিক্যাল কারন বা প্রিভেন্টেবল কজ অব ব্লাইন্ডনেস ডায়াবেটিস কিন্তু ১ নাম্বার কারন হিসেবে দেখা গেছে। সুতরাং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা অনেক জরুরী। ত এটা যদি আমরা খুব সাবধানতার সাথে প্রতিরোধ করি তাহলে আমরা ডায়াবেটিসের জটিলতা থেকে দূরে থাকতে পারবো।

তাহলে বুঝতে পারলেন ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিস কয় ধরনের, ডায়াবেটিস কাদের হওয়ার সম্ভবনা বেশি। এই সম্ভবনা কমিয়ে আনতে কি কি করতে পারি এবং কেন ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণ করবেন।

ত আজকের মত এই পর্যন্ত পরবর্তী তে কথা হবে অন্য কোন বিষয় নিয়ে সে পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এবং আমাদের সাথেই থাকুন আল্লাহ হাফেজ।

আরও পড়তে ঃ Top 5 Popular Apps in The World | বিশ্বের শীর্ষ ৫ টি জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশন

Leave a Reply

Your email address will not be published.