September 21, 2021
কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস

গর্ভকালীন মায়েদের কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস

গর্ভকালীন মায়েদের কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস

হ্যালো বন্ধুরা, আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। আপনাদের দোয়ায় আমিও ভালো আছি। তো বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের সাথে এমন একটা বিষয় শেয়ার করতে আসছি সেটা আমাদের মায়েদের গর্ভকালীন মেয়েদের কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস।
আমরা প্রায়ই দেখে থাকি আমাদের ঘরে মা-বোন ও বউ এরা যখন গর্ভবতী হয় তখন তারা নানা ধরণের জটিলতায় ভোগে।

তার মধ্যে অন্যতম গর্ভকালীন মেয়েদের কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস। কারন এই সময় তারা এই সমস্যার শিকার হন বেশি। এছাড়াও আরো ও অনেক ধরণের সমস্যায় পড়তে পারেন কিন্ত তার মধ্যে গর্ভকালীন মায়েদের কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস সমস্যা টাই অধিক আকারে দেখা যায়।

গর্ভবতী মেয়েদের এই সময়টা তাদের শরীরের প্রতি বেশি যত্নশীল হওয়া দরকার। কিন্তু বেশির ভাগ মেয়েই এই সময় নিজের প্রতি তেমন খেয়াল রাখে না। তার গ্রামের মেয়েরাই বেশি মানেন না। ফলে তারা এ সময় নানা ধরনের জটিলতায় ভোগেন তার মধ্যে গর্ভকালীন মেয়েদের কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস এটাই বেশি দেখা যায়।

তো বন্ধুরা চলুন দেখে আসি গর্ভকালীন মেয়েদের কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস কেন হয়?

গর্ভকালীন কোষ্ঠকাঠিন্য

গর্ভকালীন সময়ে মা ও সন্তানের জন্য গুরুত্ত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেশ্টারোন দুই শক্তিশালী হরমোন। গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের প্রতিস্থাপন, বিকাশ এবং সফল ভাবে সন্তানের জন্ম এ হরমোন দুটির ওপর নির্ভর করে।

যদিও গর্ভকালীন সময়ে এই দুটি হরমোন বিশেষ ভূমিকা পালন করে তবে প্রজেশ্টারোন হরমন টি গর্ভাবস্থায় নানা ধরণের অস্বস্তিকর উপসর্গ দেহে সূচনা ঘটায়। গর্ভকালীন সময়ে পরিপাকতন্ত্রের ওপর প্রজেশ্টারোনের প্রভাব বিশেষ করে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ প্রজেশ্টারোন পরিপাকতন্ত্রের মাংসপেশির শৈথিল্যের জন্য একক ভাবে দায়ী। মাংসপেশির শৈথিল্যের জন্য খাদ্য পরিপাক এবং পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাদ্যের প্রবেশ সময় বাড়িয়ে দেয় ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।

পরিপাকতন্ত্রের শৈথিলতা শুধু কোষ্ঠকাঠিন্যই নয়, কোষ্ঠকাঠিন্য সংশ্লিষ্ট জটিলতা, যেমন পাইলস, ফিশার, থ্রোম্বস্থ পাইলসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও পাকস্থলী ও ছোট ছোট আকারে মাংসপেশির শিথিলতা, বদহজম, ইত্যাদির সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভকালীন সময় এ ধরণের সমস্যা হতে পারে। তবে এর জন্য লজ্জিত হওয়ার কোন কারন নেই।

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য এতই স্বাভাবিক যে অন্যান্য লক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যতাকেও গর্ভধারণের একটি লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস

গর্ভকালীন সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য বেশ কয়টি ভালো চিকিৎসাও আছে। এছাড়াও এ রোগ নিরাময়ের জন্য সব সময়ই স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ। এ ছাড়াও শরীরের প্রতি অধিক যত্নশীল হওয়া। নিচে গর্ভকালীন কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্ত পেতে আমি যা করতে বলব তা হল:

আমার উপদেশগুলো

১। প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে
২। স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে, যেমন- ফাইবারযুক্ত বাদামি পাউরুটি, ফল, শাক-সবজি, ডাল ও মটরশুঁটি ইত্যাদি।
৩। একে বাড়ে বেশি খাবার খাওয়া যাবে না। সারাদিন ভরে অল্প অল্প করে খেতে হবে। ফলে পরিপাকতন্ত্রের ওপর চাপ কমে গিয়ে শরীর সুস্থ রাখবে।
৪। মনে রাখতে হবে আঁশযুক্ত খাবার বেশি খেলে সেই সঙ্গে সারাদিন পানি পান করাও বাড়াতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস

প্রত্যাহিক জীবন পরিবর্তনে আমাদের উপদেশ হবে-

১। প্রতিদিন নিয়ম করে হালকা ব্যায়াম করতে হবে।
২। পিঠের নিরূদ্দেশে ওপর থেকে নিচে মর্দন করতে হবে।
৩। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পর্যাপ্ত খাবার খেয়ে মলত্যাগের চেষ্টা করতে হবে। মলত্যাগের অনুভূতি এলে দেরি না করে মলত্যাগ করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ বাচ্চাদের দাঁতে পোকা ধরলে কিভাবে তা দ্রুত সেরে তুলবেন!!!

গর্ভকালীন সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে যে চিকিৎসা দরকার

১। স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সুস্থ জীবন যাপন করার পরেও যদি কোষ্ঠকাঠিন্য ভালো না হয় তাহলে ওষুধের দরকার হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে যে কোনো ওষুধ মায়ের শরীরে গিয়ে ভ্রূণ বা পেটের সন্তানের ওপর তারসমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের কথা ছাড়া কোনো ধরনের ওষুধ খাওয়ানো যাবে না।

বাংলাদেশের পশ্চিমা দেশগুলোর মতো এখন বাংলাদেশেও ধাত্রী শিক্ষায় শিক্ষিত মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে মিডওয়াইফ দ্বারা গর্ভকালীন মায়েদের সেবার অনেক উন্নতি হয়েছে।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস

২। কোষ্ঠকাঠিন্য ভালো করার জন্য যে সকল ওষুধ পরিপাকতন্ত্রের মধ্যে থেকে যায় কিন্তু রক্তে প্রবেশ করতে পারে না তারা হল: ল্যাক্টুলোজ, গর্ভকালীন মায়েদের ব্যবহারযোগ্য কিন্তু সেনা জাতীয় ওষুধ নয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারনে পেটে ব্যথা হলে সবচেয়ে কম মাত্রায় প্যারাসিটামল ঔষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে শুধু কিছু সময়ের জন্য। কোষ্ঠকাঠিন্য যদি আরও জটিলতার সৃষ্টি করে তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এখন আমরা গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের পাইলসের সমস্যার কারণ গুলি নিয়ে আলোচনা করব।

গর্ভকালীন মায়েদের পাইলস বা হিমোরয়েডস

পাইলস বা হিমোরয়েডস পায়ুপথ ও মলাশয়ের শেষে অবস্থিত বালিশের ন্যায় রক্তনালির স্ফীত অংশ যা পায়ুপথ দিয়ে মল নির্গমণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যদিও সব মানুষের স্বাভাবিক দেহের অংশ শুধু লক্ষণ দেখা দিলেই ওই রক্তনালিসমৃদ্ধ অংশ গুলোকে পাইলস বা হিমোরয়েডস বলা হয়। তাছাড়া পাইলসের লক্ষণ যে কোনো মানুষের মধ্যে দেখা দিতে পারে।

গর্ভকালীন মায়েদের হরমনের কারণে পাইলস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক টাই বেড়ে যায়, অনেক সময়ই পায়ুপথের বাইরে বেরিয়ে আসে ফলে জটিল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস

 

পাইলসের যেসব উপসর্গ দেখা যায়

১.পায়ুপথ দিয়ে রক্ত বের হওয়া। সাধারণত টকটকে লাল, চুলকানি, বেদনা, জ্বালা অথবা পায়ুপথের চারিধারে ফোলা।
২. মলত্যাগের সময়ে পায়ুপথে প্রচন্ড ব্যথা পাওয়া।
৩. মলত্যাগের পর শ্লেষা নির্গমন।
৪. এক বা একাধিক পাইলস পায়ুপথের বাইরে বেরিয়ে আসা।

গর্ভকালীন সময়ে পাইলস দূর করতে যে চিকিৎসা দরকার

কোষ্ঠকাঠিন্যই পাইলসের অন্যতম কারণ। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য আর পাইলস এক সঙ্গে থাকলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। ওষুধের দ্বারা চিকিৎসার নেওয়ার আগে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এগুলা গর্ভকালীন সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পাইলস থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে।

তাই আমি বলব আপনারা যদি উক্ত নিয়ম মেনে চলেন তাহলে গর্ভকালীন সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সুস্থ হয়ে যাবেন। এমন কি এগুলা পূর্বে মেনে চললে এই রোগ গুলা থেকে আপনি পুরোপুরি মুক্ত থাকতে পারবেন বলে আমি মনে করি।

তো বন্ধুরা আজ এত টুকুই দেখা এরকম আরও দরকারী সব তথ্য নিয়ে। আর আমাদের এই বিষয় গুলো আপনারদের ভালো লেগে থাকলে তাহলে লাইক,কমেন্ট ও শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর হ্যা আপনাদের যদি এই বিষয় নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ওকে বন্ধুরা আপনারা সবাই ভালো থাকবেন এতক্ষন সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ

বিস্তারিত জানতেঃ আমলকী কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করে

Writing By
Shapon Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published.