September 22, 2021
কম্পিউটারের ইতিহাস

কম্পিউটারের ইতিহাস- history of Computer

কম্পিউটারের ইতিহাস- history of Computer

হ্যালো বন্ধুরা, দিন যত যাচ্ছে বিশ্ব জুড়ে মানুষ ততটাই ডিজিটাল পথের দিকে ছুটছে। তাই বন্ধুরা এখনকার সময়ে একজন সাধারণ মানুষের কম্পিউটার সম্পর্কে জ্ঞান থাকাটা খুবই গুরুত্ব পূর্ণ। তা না হলে আপনি সমাজের মানুষের থেকে পিছিয়ে পড়বেন। তাই আমাদের এই কম্পিউটার প্রযুক্তির যুগে ইস্মার্ট হতে হবে। তো বন্ধুরা আজকে আমরা আলোচনা করবো কম্পিউটার আবিষ্কার অর্থাৎ history of Computer নিয়ে।

কারণ কম্পিউটার সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের আগে কম্পিউটার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে। তবে যদি আমরা কম্পিউটারের আবিষ্কারের কথা বলি কোন একজন ব্যাক্তি কম্পিউটারের আবিষ্কারের দাবি করতে পারেননা। কম্পিউটার হচ্ছে যুগযুগ ধরে বিশ্বের অজশ্র বিজ্ঞানীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার সূফল। তবে ১৮২২ খিষ্টাব্দে চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage)তার তৈরী কম্পিউটার যে নীতি ও প্রযোক্তি গুলো প্রয়োগ করেছিলেন পরবর্তী কালে সেই নীতিই বিজ্ঞানীরা অনুসরণ করেছিলেন বলেই আমরা এতো উন্নত কম্পিউটার পেতে পেরেছি।

কম্পিউটারের ইতিহাস

এই কারণে আমরা চার্লস ব্যাবেজ(Charles Babbage) কে কম্পিউটারের জনক বা father of computers. বলে থাকি। কিন্তু উনি কম্পিউটারের আবিস্কারক নয়। তবে আপনাদের মনে প্রশ্ন জগতে পারে কম্পিউটারের উদ্ভব কোথায় হয়েছিল এবং প্রথম কম্পিউটারের নাম কি। তাহলে আপনাদের জানিয়ে রাখি বিশ্বের প্রথম কম্পিউটারের নাম হলো, অ্যাবাকাস(abacus) পাওয়া গিয়েছিলো চীন দেশে আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার আট বছর পূর্বে।

কম্পিউটারের ইতিহাস

তবে এটা নিয়ে অনেক বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনেক বিতর্ক রয়েছে। তবে এই আবিষ্কারকের নাম এখনো প্রায় অজানা। তবে চীনারা প্রথম এটা ব্যবহার করেছিল।এই যন্ত্রটি সাধারণত কাঠ বা ধাতুর ফ্রেমের ভিতরে তারের মধ্যে পুঁতি থাকতো। হাতের সাহায্যে ওই পুঁতিগুলো সরিয়ে সংখ্যা গোনা যেত। এই পুঁতিগুলো সরিয়ে সাধারণত যোগ, বিয়োগ করা যেত। তবে জাপানীরাও এই রকমের একটা যন্ত্র ব্যবহার করতো জেতার নাম তারা দিয়েছিলো সরোবন

(Saroban) । তবে এটা খুব বেশি ব্যাবহারিত নয় , চীন দেশের ব্যাবহারিত অ্যাবাকাস হলো জনপ্রিয়, এবং অ্যাবাকাসই হলো পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার। এবং এর ঠিক পরে ১৬১৭ খিষ্টাব্দে কম্পিউটার দুনিয়ায় আবিষ্কার মাথাচাড়া দিয়েছিলো, যেটি আবিষ্কার করেছিল জন নেপিয়ার(John Napier) নামক একজন বিজ্ঞানিক। এবং এটার নাম ছিলো নাপিয়ার্স বোন। অর্থাৎ বিজ্ঞানীর নাম অনুসারে এটার নাম রাখা হয়।

অ্যাবাকাস এর মতো এটিও ছিল হস্তচালিত। এবং হাতির দাঁতের তৈরি যন্ত্রটিতে দশটি রেখঙ্গীত দন্ড আছে। এর সাহায্য দুইটি বড় সংখ্যা গুণন করা সম্ভব হতো। তবে পরবর্তী কালীন ১৬২০ খিষ্টাব্দে আবার টেকনোলজি জগতে খুব একটা বড় পরিবর্তন এসেছিলো। জেতার নাম ছিল স্লাইড রুল

(Slide Rule)এবং এটি আবিষ্কার করেছিলেন উইলিয়াম ওট্ৰেড। তবে এটি নেপিয়ারের নীতির উপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছিল। এবং এর সাহায্য গুন,ভাগ, বর্গমূল ইত্যাদি করা যেত। পরবর্তী কালীন এই আবিষ্কারের ঠিক ২২ বছর পর আবার একটি কম্পিউটার টেকনোলজি জগতে মাথাচাড়া দিয়েছিলো এবং এটির নাম ছিল পাসকালের ক্যালকুলেটর। বা এটাকে আমরা Pascal calculator বলেও চিনতাম।

এটি আবিষ্কার হয়েছিল ১৬৪২ খিষ্টাব্দে এবং এটি আবিষ্কার করেছিলেন বিজ্ঞানিক পাসকাল এটি হলো বিশ্বের প্রথম ক্যালকুলেটর। এতে চার সারি সংখ্যার যোগ,বিয়োগ গুন ভাগ এই ক্যালকুলেটারের সাহায্য করা যেত। পরবর্তী কালে আবার ১৬৭১ খিষ্টাব্দে আর একটি কম্পিউটার আবিষ্কার হয় যেটির নাম ছিল স্টেপড রেকনার

(Stepped Reckoner)। এবং এই কম্পিউটার টি আবিষ্কার বিজ্ঞানিক গডফ্রে লিবনিজ(Godfrey Leibniz)। তবে এটাই ছিল প্রথম মেকানিক্যাল ক্যালকুলেটর। এর মাধ্যমে যোগ,বিয়োগ,গুন ,ভাগ ও বর্গমূল করা যেত। এবং তারপরে কম্পিউটার জগতে আর একটি নতুন ধারণা নিয়ে এসেছিলো জ্যাকওয়ার্ড লুম (Jacquard Loom)।এটি আবিষ্কার হয়েছিল ১৮০৪ খিস্টব্দে।

এবং এটি আবিষ্কার করেছিলেন জোসেফ জ্যাকওয়ার্ড (Joseph Jacquard)। এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার যেটাতে পাঞ্চড কার্ড ব্যবহার করে প্রথম তাঁত যন্ত্র কে স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছিল। এবং পরবর্তী কালে ১৮২২ খিস্টব্দে আসে কম্পিউটারের জগতে সব থেকে বড় এবং অভিনব পরিবর্তন। যা আজকের যুগের আধুনিক বিজ্ঞানীরাও অনুসরণ করে আসছেন।

আপনারা বুজতেই পারছেন আমি কার কথা বলছি। ওই সময় থেকেই এক নতুন বিজ্ঞানীর আবির্ভাব ঘটে। কম্পিউটার টেকনোলজির যুগে এক নতুন পরিবর্তন নিয়ে এসেছিলেন। যার নাম চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage)অর্থাৎ কম্পিউটারের জনক। উনি প্রথমে একটি কম্পিউটার বানিয়ে ছিলেন যার নাম ছিল ডিফারেন্স ইঞ্জিন (Difference Engine)এটাই প্রথম কম্পিউটার যেটাতে তথ্য সঞ্চয় এর ধারণা আমরা পাই।

কম্পিউটারের ইতিহাস

এবং এর মাধ্যমে অনেকগুলো কাজ একসঙ্গে করা যেত। সমস্ত রকম গাণিতিক সমস্যা যোগ,বিয়োগ,গুন,ভাগ বর্গমূল এসব এই কম্পিউটারের দ্বারা খুব সহজে এবং দ্রুত ভাবে করা যেত। এবং পরবর্তী কালে সেটাকে আপডেট করে চার্লস ব্যাবেজ আর একটি কম্পিউটার বাজারে নিয়ে আসেন জেতার নাম ছিল এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন

(Analytical Engine)। যেটি বাজারে এসেছিল ১৮৩৩ খিষ্টাব্দে। এই কম্পিউটারের সাহায্য যোগ,বিয়োগ,গুন,ভাগ এবং বর্গমূল খুব দ্রুত এবং নির্ভুল ভাবে করা যেত। এবং এটাতেও এক প্রকার পাঞ্চ কার্ড ব্যবহার করে তথ্য সঞ্চয় করা যেত। এবং এটাও হচ্ছে বিশ্বের আরেকটি অভিনব কম্পিউটার input process output এর ধারণাটি প্রথম প্রয়গ করা হয়েছিল।

কম্পিউটারের ইতিহাস

তবে যন্ত্র পাতির অভাবের কারণে চার্লস ব্যাবেজের পক্ষে এই যন্ত্রটি সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। তার পরেই ১৯৯০ খিষ্টাব্দে আর একটি নতুন কম্পিউটার আবিষ্কার হয়। যেটার নাম ছিল হারমান হোলারিথ (Herman Hollarith)এটি আবিষ্কার করেছিলেন হারমান হোলারিথ, নামের এক বিজ্ঞানিক। এই যন্ত্রে ছিদ্রযুক্ত এক প্রকার পাঞ্চ কার্ড ব্যবহার করে আমেরিকার জনগণনা করা হয়েছিল। পাঞ্চ কার্ডের সাহায্যই তথ্যাদি সরবরাহ ও সংরক্ষণ করা হত। এই যন্ত্র ছিল সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়। অর্থাৎ নিজেথেকেই তার সমস্ত কাজ করতে পারতো। এবং পরবর্তী কালে এক বিশাল বড় মাপের কম্পিউটার আবিষ্কার হয় যার নাম মার্ক-১ বা(mark-I) ।

আরও পড়ুনঃ ইউটিউবে ভিডিও ভাইরাল করার সবচেয়ে সহজ উপায় – How to viral videos on youtube

যেটি ১৯৪৪ খিষ্টাব্দে আবিষ্কার করা হয় এবং এটি আবিষ্কার করে ছিলেন হাওয়ার্ড এইকেন। এবং এই কম্পিউটার টি আবিস্কা হয়েছিল বাইনারী সিস্টেমেরে উপর ভিত্তি করে। চার্লস ব্যাবেজের অসমাপ্ত কাজের বাস্তবায়ন এই কম্পিউটার এ দেখা দিয়েছিল। এটাই হলো প্রথম ইলেকট্রনিক্স মেকানিক্যাল কম্পিউটার। যা কম্পিউটারের জগতে অভিনব এবং তুমুল পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল।

এবং সে সময়ে এটি খুবই একটি জনপ্রিয় কম্পিউটার ছিল। এবং পরবর্তী কালে ১৯৪৬ খিষ্টাব্দে অর্থাৎ তার ঠিক দই বছর পর জন মকলে ও প্রেসপার একার্ট একটি কম্পিউটার আবিষ্কার করেন। যেটির নাম ছিল ইউনিভ্যাক (Univac)। এটি ছিল পৃথিবীর প্রথম সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক কম্পিউটার। এবং তার পরেই চার্লস ব্যাবেজের হাতধরে বাজারে আসে একের পর এক নতুন কম্পিউটার। যা কম্পিউটারের জগতে তুমুল পরিবর্তন এনেছিল। এবং যার নাম হয়তো আমি বলে এখন শেষ করতে পারবোনা।

বিস্তারিত পড়ুনঃ ৪৫ হাজার টাকার গেমিং পিসি বিল্ড গাইড-২০২১

অর্থাৎ কম্পিউটার কে বহুমুখী কাজে ব্যবহার করা হয়,যেমন চিকিৎসা ক্ষেত্রে শিক্ষা ক্ষেত্রে শিল্পে ইত্যাদি কাজে ব্যবহার হয়। যার সুফল আজকে আমরা ব্যবহার করছি। তবে এটাই ছিল কম্পিউটারের ইতিহাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published.