September 21, 2021
এইসএসসি নাকি ডিপ্লোমা

কোনটা করব এইসএসসি নাকি ডিপ্লোমা?

এইসএসসি নাকি ডিপ্লোমা

# এইস.এস.সি
# ডিপ্লোমা
আসসালামু ওয়ালাইকুম। আসা করি সবাই ভাল আছেন। আপনাদের দোয়ায় আমিও অনেক ভাল আছি। আজকে আপনাদের সাথে আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা -পর্যালোচনা করব।

আমাদের শিক্ষা জীবনে কয়েকটা ধাপ রয়েছে। এই ধাপ গুলো আমাদের পর্যায়ক্রমে অতিক্রম করতে হয়। এই ধাপ গুলো অতিক্রম করার সময়, আমরা অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। এতে আমাদের শিক্ষা জীবনে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব, কিভাবে শিক্ষা জীবনের ধাপগুলি সঠিক ভাবে অতিক্রম করবেন। আমরা যখন মাধ্যমিক পাস করে উচ্চমাধ্যমিক এ পড়তে যাই, অর্থাৎ এসএসসি পাস করে এইচএসসি তে পড়তে যাই, তখনি আমাদের শিক্ষা জীবনের প্রধান ধাপ গুলো শুরু হতে থাকে।
এসএসসি পরীক্ষার পরে আমরা অনেক চিন্তায় পরে যাই। কোথায়, কোন কলেজে, কিভাবে ভর্তি হব।

অনেকে আছে কোন বিষয় না জেনে বন্ধুদের সঙ্গে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু এই ভুল সিদ্ধান্ত এর জন্য এক জন শিক্ষার্থীর জীবন নষ্ট হতে পারে। তাই আজ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করব। কলেজ পর্যায়ে সাধারণত শিক্ষা দুই ধরনের হয়ে থাকে।

১.সাধারণ শিক্ষা
২.কারিগরি শিক্ষা

আমি প্রথমে সাধারণ শিক্ষা নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করব।

১.সাধারণ শিক্ষা

এস.এস.সি পাসের পরে একজন শিক্ষার্থী যদি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই ভাল কোন কলেজ এ ভর্তি হতে হবে। কারণ বি.সি.এস ক্যাডার হলে প্রথমে এইচ.এস.সি তে ভাল রেজাল্ট করে তার পরে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করতে হয়। তার পরে বি.সি.এস এ অংশ গ্রহণ করতে হয়। তাই কেউ যদি বি.সি.এস ক্যাডার হতে চায় তাকে এইচ.এস.সি তে ভর্তি হতে হবে।বাংলাদেশের প্রায় ৯৫% শিক্ষার্থী এইচ.এস.সি তে ভর্তি হয়।

এইসএসসি নাকি ডিপ্লোমা

এইচ. এস..সি পাস করার পরে যা-যা করতে পারবে।

১. যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন করতে পারবে।
২. কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সুযোগ না পেলে, যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী বা অর্নাস করতে পারবে।
৩. বি.সি.এস ইন নাসিং করতে পারবে।
৪. ৯৫% সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবে।
৫. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিনে ৭ টা কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে। এগুলো ছাড়া আর অনেক কিছু আছে যা এখানে আমি তুলে ধরতে পারছি না।

এইসএসসি নাকি ডিপ্লোমা

2.কারিগরি শিক্ষা

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ভর্তি হওয়ার জন্য কোন শিক্ষার্থীকে পরিক্ষা দিতে হয় না। এস.এস.সি রেজাল্ট অনুযায়ী ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার জন্য ইংলিশ এবং গনিতে ৩.০০ এর উপরে থাকতে হবে। এবং মোট জি.পি.এ ৩.৫০ এর উপরে থাকতে হবে। তাহলে একজন শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবে।

কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে এস.এস.সি পাস একজন শিক্ষার্থী সরাসরি ৪ বছর মেয়াদে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সম্পন্ন করতে পারে। যা সাধারণ শিক্ষার তুলনায় ২ বছর আগেই শেষ হবে। সহকারি ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে চাকরির বাজারে প্রবেশ করে পারবেন। কারিগরি শিক্ষার শিক্ষার্থীরা হাতে – কলমে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রশিক্ষণের মাধ্যেমে বিভিন্ন সরকারি ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরির জন্য যোগ্য করে তোলা হয়। বর্তমান বিশ্বে দক্ষ ও যোগ্য হয়ে ওঠার জন্য সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কারণ একটা জাতি কতটা উন্নতি করবে সেটা নির্ভর করে সেই জাতির দক্ষতার উপর। যখন আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন ফল হিসেবে সেই কাজে দক্ষ হয়ে উঠবেন। তাই কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাইলে এস.এস.সি পরিক্ষার পড়ে ৪ বছর মেয়াদে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি হতে পারেন।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর অধিনে যে সকল বিষয়ের উপরে শিক্ষা দেওয়া হয়, তা উল্লেখ করা হল।

* সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং

* মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

* পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং

* ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

* কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং

* কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

* ইনভাইরোমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং

* রেফ্রিজারেটর ইঞ্জিনিয়ারিং

* ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং

* কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং

এখন আপনি এখান থেকে যে কোন বিষয় নিয়ে আপনি ৪ বছর মেয়াদে ডিপ্লোমা পড়তে পারেন। এখন আলোচনা করব কোন বিষয় নিয়ে পড়ে কি চাকরি পাওয়া যায়?

এইসএসসি নাকি ডিপ্লোমা

* সিভিল

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থান আগামী দশ বছরে ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা রাস্তা, ভবন, বিমানবন্দর, টানেলস, বাঁধ, সেতু এবং জল সরবরাহ ব্যবস্থা সহ সরকারী ও বেসরকারী খাতে অবকাঠামোগত প্রকল্প এবং সিস্টেমগুলি ধারণা, নকশা, নির্মাণ, তদারকি, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করে।

* মেকানিক্যাল

মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়াররা যান্ত্রিক এবং তাপীয় সেন্সর এবং ডিভাইসগুলির ডিজাইন, বিকাশ, বিল্ডিং পরীক্ষা করে। মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়াররা সাধারণত অফিসগুলিতে কাজ করেন। তারা মাঝে মধ্যে ওয়ার্ক সাইট গুলিতে যেতে পারেন সেখানে কোনও সমস্যা বা সরঞ্জামের ত্রুটি হলে তারা তা সমাধান করে থাকেন। মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়াররা বেশিরভাগ ইঞ্জিনিয়ারিং পরিষেবা, গবেষণা এবং উন্নয়ন এ কাজ করে থাকেন।

পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং

পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ার মুলত পাওয়া প্ল্যান সেক্টরে জব পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া নানা রকম প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তলন এবং সংরক্ষণ কাজে পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারা কাজ করে থাকে।

* ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

বৈদ্যুতিক এবং ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারদের সামগ্রিক কর্মসংস্থান আগামী দশ বছরে 3 শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমস্ত বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীরা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদন, নকশা, বিকাশ, পরীক্ষা এবং গবেষণা, উন্নয়ন, প্রকৌশল সেবা, টেলিযোগাযোগ তদারকি করেন। বৈদ্যুতিক এবং ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়াররা সাধারণত অফিসে ঘরে বসে কাজ করেন। তবে তাদের কোনও সমস্যা বা জটিল সরঞ্জামের সমস্যা হলে পর্যবেক্ষণ করতে তাদের সাইটগুলিতে যেতে হয়।

কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং

নানা রকম সফ্টওয়্যার সংস্থাগুলো তাদের ব্যবসায়ের লক্ষ্য পূরণ করার জন্য কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের চাকরিতে যে সকল বিষয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয় তা হল, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং সফ্টওয়্যার সিস্টেম ডিজাইন, বিকাশ এবং হার্ডওয়্যার সিস্টেম গুলোর স্থিতিশীল এবং দক্ষতার সাথে পরিচালিত করা। সফ্টওয়্যার সমস্যাগুলি উদয় হওয়ার সাথে সাথে তাদের সনাক্ত করা এবং সমাধান করা।

* কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

রাসায়নিক ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থান আগামী দশ বছরে ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাসায়নিক ইঞ্জিনিয়াররা জ্বালানী, ওষুধ, নানা রকম ভাইরাস এর ভ্যাকসিন, প্রাকৃতিক সম্পদ, খাদ্য এবং অন্যান্য অনেক পণ্য ব্যবহারের সাথে জড়িত সমস্যা গুলি সমাধান করার জন্য রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান এবং গণিতের নীতি প্রয়োগ করে। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা জ্বালানীর সন্ধান,তেল এবং গ্যাস উত্তলন, জৈব প্রযুক্তি এবং চিকিৎসা ও ফার্মাসিউটিক্যাল ক্ষেত্রে চাকরি হয়ে থাকে।

* এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং

বিজ্ঞানের যে শাখায় পরিবেশ এর মাটি, পানি, বায়ু, প্রকৃতি সম্পদ,পরিবেশ এর সকল উদ্ভিদ ও প্রানি নিয়ে আলোচনা করে তাকে এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারি বলে। পরিবেশগত প্রকৌশলীরা পরিবেশগত সমস্যার সমাধানের জন্য, মাটি বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান এবং রসায়নের নীতিগুলি ব্যবহার করেন।

পরিবেশগত প্রকৌশলীরা সাধারণত নিম্নলিখিত কাজ গুলো করেন:

পরিবেশগত তদন্ত প্রতিবেদনগুলি প্রস্তুত, পর্যালোচনা,এবং আপডেট করে পরিবেশ সংরক্ষণের প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করেন । যেমন, জল পুনরুদ্ধার সুবিধা বা বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। বৈজ্ঞানিক ডেটা বিশ্লেষণ করে এবং মান-নিয়ন্ত্রণের করে। পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে। এবং অনেক সময় সিভিল প্রকৌশলীদের মতো নিমার্ন কাজ করে থাকেন।

আরও পড়ুনঃ ওজন কমাতে চান কিন্তু শুরু করবেন কিভাবে ?

* রেফ্রিজারেটর ইঞ্জিনিয়ারিং

আমরা জানি, রেফ্রিজারেটর একটি ইংরেজি শব্দ এর বাংলা হল ফ্রিজ। রেফ্রিজারেশন ইঞ্জিনিয়াররা শিল্প ও বাণিজ্যিক ভবন গুলিতে রেফ্রিজারেশন সরঞ্জাম গুলি ডিজাইন , ইনস্টল , মেরামত, এবং রক্ষণাবেক্ষণ করেন । যেখানে খাদ্য এবং অন্যান্য পচনশীল জিনিসগুলি ধ্রুবক কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়। অর্থাৎ রেফ্রিজারেটর ইঞ্জিনিয়াররা নানা ধরনের রেফ্রিজারেটর কোম্পানিতে চাকরি করে থাকেন।

এইসএসসি নাকি ডিপ্লোমা

ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং

খাদ্য ইঞ্জিনিয়ারা খাদ্য ও কৃষি উপকরণ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, বিতরণ, নতুন জাতের উদ্ভব, এবং সংরক্ষণের জন্য সিস্টেম গুলি ডিজাইন করে থাকেন। খাদ্য সুরক্ষা এবং গুণগত মান, বায়ো-রিফাইনিং, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং পরিবেশ-বান্ধব প্যাকেজিং করে থাকে। অর্থাৎ ফুড ইঞ্জিনিয়াররা নানা রকম ফুড কোম্পানিতে চাকরি করে থাকে।

* কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং

কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটা অংশ। অর্থাৎ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংদের মতো এখানে ইস্পাত বানোয়াট,ইস্পাত কাঠামো, বৈদ্যুতিক এবং অন্যান্য শিল্প ইনস্টলেশন ইত্যাদি করে থাকেন। সিভিল সম্পর্কিত সমস্ত নির্মাণ এবং পরবর্তী নির্মাণ রক্ষণাবেক্ষণ কাজের তদারকি করা এবং বৈদ্যুতিক, শীতলকরণ যন্ত্রের অভ্যন্তর কাজ ইত্যাদি করে থাকেন। কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ার নির্মাণ কাজ পরিকল্পনা ও পরিচালনা এবং সমস্ত কাজের গুণগত মান নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংগ্রহের সাথে সম্পর্কিত। নির্মাণ সেক্টরে কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং চাকরি হয়ে থাকে।

এইসএসসি নাকি ডিপ্লোমা

আরও পড়ুনঃ নিস্তেজ ত্বক এবং চুল ক্ষতি রোধ করতে কী করবেন?

এখন আপনি এখান থেকে আপনার মনের মতো শাখা নিয়ে পড়তে পারেন। কারণ এসএসসি এর পরে আপনার সিদ্ধান্ত আপনার জীবনে অনেক মূল্যবান। আপনার সঠিক সিদ্ধান্তই আপনার জীবনের উন্নয়নের চাবিকাঠি হতে পারে। একটা কথা জেনে রাখবেন আপনি যখন উন্নতি করবেন তখন উন্নতি শুধু আপনার এক হবে না উন্নতি হবে গোটা দেশের। তাই আমি আপনারদের একটা কোথায় বলব সিদ্ধান্ত যখন নিবেন তখন ভেবে নিবেন।

আজ এতটুকুই পাঠক বন্ধুরা দেখা হবে এ রকম আরও জানা অজানা বিষয় নিয়ে ততক্ষন ভালো থাকুন। এতক্ষন সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আর আমাদের এই পোস্ট যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করবেন। আর আপনার মূল্যবান কথাটি আমাদের কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাবেন। খোদা হাফেজ।

Writing By
Murad Shardar

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.